এসআইআরের পর এবার জনগণনাতেও শিক্ষকরা! প্রধান শিক্ষক-সহ সিনিয়র শিক্ষকদের নতুন দায়িত্বে প্রশ্নের মুখে স্কুলের পঠনপাঠন
রাজ্য

এসআইআরের পর এবার জনগণনাতেও শিক্ষকরা! প্রধান শিক্ষক-সহ সিনিয়র শিক্ষকদের নতুন দায়িত্বে প্রশ্নের মুখে স্কুলের পঠনপাঠন

বিএলও-র দায়িত্ব সামলানোর পর এবার সেন্সাস সুপারভাইজার ও এনুমারেটর হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু। শিক্ষক সংগঠনের দাবি, একের পর এক প্রশাসনিক কাজে ব্যাহত হতে পারে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা ব্যবস্থা।

শেয়ার
X WhatsApp

বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষিকাকে বিএলও (Booth Level Officer)-এর দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে বিতর্ক এখনও পুরোপুরি থামেনি। এর মধ্যেই ২০২৭ সালের জনগণনার কাজে রাজ্যের সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলগুলির প্রধান শিক্ষক, প্রধান শিক্ষিকা এবং সিনিয়র শিক্ষকদের সেন্সাস সুপারভাইজার ও এনুমারেটর হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে শিক্ষক মহলে।

শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশের অভিযোগ, অধিকাংশ বিদ্যালয়েই বহু শিক্ষক ইতিমধ্যে বিএলও হিসেবে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে যুক্ত রয়েছেন। এবার তাঁদের উপর জনগণনার অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপলে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে প্রধান শিক্ষক ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের সুপারভাইজার হিসেবে নিয়োগ করা হলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজও প্রভাবিত হতে পারে বলে মত শিক্ষকদের।

এই পরিস্থিতিতে 'সেন্সাস কর্মী ঐক্য মঞ্চ' রাজ্যের জনগণনা অধিকর্তার কাছে একটি লিখিত আবেদন জানিয়েছে। সংগঠনের সভাপতি স্বপন মণ্ডল দাবি করেছেন, উচ্চ ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বহু প্রধান শিক্ষককে সেন্সাস সুপারভাইজার এবং সিনিয়র শিক্ষকদের এনুমারেটর হিসেবে মনোনীত করা হচ্ছে। অথচ তাঁদের বড় অংশই ইতিমধ্যে বিএলও-র দায়িত্ব পালন করছেন।

সংগঠনের দাবি, এসআইআর চলাকালীন বহু শিক্ষককে বিদ্যালয়ের বাইরে প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। ফলে শিক্ষাদান ব্যাহত হয়েছে। একই পরিস্থিতি জনগণনার সময়ও তৈরি হলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পঠনপাঠন আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

চিঠিতে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে প্রধান শিক্ষক ও সিনিয়র শিক্ষকদের জনগণনার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প কর্মী নিয়োগ অথবা প্রশাসনিক দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের দাবিও তোলা হয়েছে।

এদিকে, জনগণনার ডিজিটাল পোর্টালে বহু শিক্ষক-শিক্ষিকার নামে অ্যাকাউন্ট তৈরির বার্তা পৌঁছেছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে তাঁদের 'Statutory Town Charge Enumerator for Census 2027' হিসেবে লগইন সংক্রান্ত তথ্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নাম, পদবি এবং সেন্সাস-সংক্রান্ত তালিকাও সামনে এসেছে, যা থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

শিক্ষক সংগঠনগুলির বক্তব্য, জনগণনা নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব। তবে একই সঙ্গে বিএলও, জনগণনা এবং বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে শিক্ষার্থীদের উপর। তাই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকার বা জনগণনা কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে শিক্ষক মহলের উদ্বেগ কতটা গুরুত্ব পায় এবং প্রশাসন এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে

KOLOROB Note

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে আমাদের Contact পৃষ্ঠার মাধ্যমে জানান। যাচাই শেষে সংশোধনী প্রকাশ করা হবে।

সম্পর্কিত খবর আরও →
বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুন তদন্তে ‘জয়নগর মডেল’? ২০২৪-এর মামলার তদন্তকারী অফিসারদের ফের মাঠে নামানোর প্রস্তুতি
রাজ্য

বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুন তদন্তে ‘জয়নগর মডেল’? ২০২৪-এর মামলার তদন্তকারী অফিসারদের ফের মাঠে নামানোর প্রস্তুতি

বারুইপুর কাণ্ডে কড়া প্রশাসন, যে ঘটনাটি ঘটেছে তাতে জিরো টলারেন্স।বড় অ্যাকশন হবে। আমি কাল নিজে যাচ্ছি বারুইপুর সুপারের অফিসে। অশান্তির নেপথ্যে থাকা শক্তিকে তীব্র হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর
রাজ্য

বারুইপুর কাণ্ডে কড়া প্রশাসন, যে ঘটনাটি ঘটেছে তাতে জিরো টলারেন্স।বড় অ্যাকশন হবে। আমি কাল নিজে যাচ্ছি বারুইপুর সুপারের অফিসে। অশান্তির নেপথ্যে থাকা শক্তিকে তীব্র হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

ছবি  এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব
রাজ্য

উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের জন্য ৩১৩ কোটির মেগা প্রকল্প, শিক্ষা-স্বাস্থ্য-বাসস্থানে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্য

রাজ্য পুলিশে মেগা রদবদল! একসঙ্গে বদলি ১০৮ থানার আইসি-ওসি, জারি নবান্নের নির্দেশিকা