রাজ্যের উন্নয়ন প্রকল্পে ৩৩% অর্থ খরচে সবুজ সংকেত নবান্নের, আর্থিক শৃঙ্খলায় জারি কড়া গাইডলাইন
কলকাতা

রাজ্যের উন্নয়ন প্রকল্পে ৩৩% অর্থ খরচে সবুজ সংকেত নবান্নের, আর্থিক শৃঙ্খলায় জারি কড়া গাইডলাইন

২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে স্টেট ডেভেলপমেন্ট স্কিম ও গ্রামীণ পরিকাঠামো প্রকল্পে ব্যয়ের অনুমোদন; কেন্দ্রীয় সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্পে অর্থ ছাড়ে অর্থ দফতরের আগাম অনুমতি বাধ্যতামূলক।

শেয়ার
X WhatsApp

রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির গতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে স্টেট ডেভেলপমেন্ট স্কিম (State Development Scheme)-এর আওতায় থাকা প্রকল্পগুলির জন্য বার্ষিক বাজেটের সর্বোচ্চ ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য অর্থ দফতর। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জারি হওয়া এক সরকারি মেমোরেন্ডামে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত ভোট-অন-অ্যাকাউন্ট-এর আওতায় বরাদ্দ হওয়া অর্থের ভিত্তিতেই এই ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এর ফলে চলমান উন্নয়নমূলক কাজগুলির গতি বজায় রাখা সহজ হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

শুধু স্টেট ডেভেলপমেন্ট স্কিমই নয়, গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এবং রুরাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (RIDF)-এর অধীনেও একই হারে অর্থ ব্যয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক দফতরগুলি অনুমোদিত প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত নিয়ম মেনে সরাসরি অর্থ বরাদ্দ করতে পারবে।

তবে সব প্রকল্পের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। নবান্ন স্পষ্ট জানিয়েছে, পঞ্চদশ ও ষোড়শ অর্থ কমিশনের প্রকল্প, সমস্ত কেন্দ্রীয় স্পনসরড স্কিম (CSS) এবং কেন্দ্রীয় আর্থিক সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্পে অর্থ ছাড়ের আগে রাজ্য অর্থ দফতরের বাজেট শাখার আগাম অনুমোদন বাধ্যতামূলক। একইভাবে সরকারি ঋণ, ভর্তুকি এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত ব্যয়ের ক্ষেত্রেও অর্থ দফতরের চূড়ান্ত সম্মতি ছাড়া অর্থ ছাড় করা যাবে না।

সরকারি অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করতে নির্দেশিকায় একাধিক কঠোর শর্তও আরোপ করা হয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পে অর্থ ছাড়ের আগে সংশ্লিষ্ট দফতরের ফিনান্সিয়াল অ্যাডভাইজারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া অনুমোদিত বাজেটের বাইরে অতিরিক্ত ব্যয় করা যাবে না এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রযুক্তিগত বা প্রশাসনিক নিয়মের বাইরে কোনও পরিবর্তনও গ্রহণযোগ্য হবে না।

নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অনুমোদিত বিধি লঙ্ঘন করে কোনও ধরনের প্রযুক্তিগত বা অন্যান্য পরিবর্তন করা হলে তা বরদাস্ত করা হবে না। এর মাধ্যমে সরকারি অর্থ ব্যয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব পি কে মিশ্র-র স্বাক্ষরিত এই নির্দেশিকা মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক, জেলা বিচারক, ট্রেজারি অফিসার, অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক দফতরের সচিবদের কাছে এই নির্দেশিকার প্রতিলিপি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অর্থ দফতরের এক শীর্ষ আধিকারিকের কথায়, উন্নয়নমূলক কাজের গতি বজায় রাখার পাশাপাশি সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই এই নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য।

KOLOROB Note

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে আমাদের Contact পৃষ্ঠার মাধ্যমে জানান। যাচাই শেষে সংশোধনী প্রকাশ করা হবে।

সম্পর্কিত খবর আরও →
সমান্তরাল তৃণমূলে জেলা কমিটি ঘোষণা, বীরভূমের দায়িত্বে অনুব্রত; ঋতব্রত শিবিরের বৈঠকে বিতর্কের কেন্দ্রে নির্মল ঘোষ
কলকাতা

সমান্তরাল তৃণমূলে জেলা কমিটি ঘোষণা, বীরভূমের দায়িত্বে অনুব্রত; ঋতব্রত শিবিরের বৈঠকে বিতর্কের কেন্দ্রে নির্মল ঘোষ

ছবি  এ আই দ্বারা নির্মিত
কলকাতা

অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পথে বড় পদক্ষেপ, রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করল রাজ্য সরকার

ছবি  এ আই দ্বারা নির্মিত
কলকাতা

‘নিছক গণপিটুনি নয়, এটি সুপরিকল্পিত খুন’—ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়িতে গিয়ে বিস্ফোরক দাবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

ছবি  এ আই দ্বারা নির্মিত
কলকাতা

বারুইপুর কাণ্ডের পর কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, গোটা রাজ্যে বেআইনি মাদক ও মদের ঠেকের বিরুদ্ধে ২ সপ্তাহের বিশেষ অভিযান