আগামীকাল দুপুর ১২ টায় পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ—সবার নজর এখন বিধানসভায় পেশ হতে চলা এই বাজেটের দিকে। কারণ, নির্বাচনের আগে দেওয়া একাধিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রথম বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই বাজেটকে।
ভোটের সময় প্রকাশিত সংকল্পপত্রে বিজেপি রাজ্যের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, কৃষকদের সহায়তা, মহিলাদের আর্থিক ক্ষমতায়ন এবং সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি ডিএ সংক্রান্ত একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ফলে প্রথম বাজেটে সেই প্রতিশ্রুতিগুলির কতটা প্রতিফলন দেখা যায়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
সবচেয়ে বেশি আগ্রহ রয়েছে সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) ইস্যু নিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে এই দাবিকে কেন্দ্র করে আন্দোলন চলছে। তাই বাজেটে ডিএ সংক্রান্ত কোনও বড় ঘোষণা আসে কি না, সেদিকে বিশেষ নজর রয়েছে সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের।
একই সঙ্গে মহিলাদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রকল্প, প্রবীণদের ভাতা বৃদ্ধি, কৃষকদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা এবং যুব সমাজের কর্মসংস্থান সংক্রান্ত ঘোষণার সম্ভাবনাও জোরালো। প্রশাসনিক মহলের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ পরিষেবা ব্যবস্থার লক্ষ্যে নতুন প্রকল্প এবং অতিরিক্ত বরাদ্দের ঘোষণা হতে পারে।
পরিকাঠামো উন্নয়নও এবারের বাজেটের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে রেল, সড়ক, জল জীবন মিশন ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বিপুল আর্থিক সহায়তার আশ্বাস ইতিমধ্যেই মিলেছে। ফলে রাজ্যের সড়ক, সেতু, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং শিক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
শিল্প ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, এমএসএমই খাতকে শক্তিশালী করা, লজিস্টিক পরিকাঠামোর উন্নয়ন, পর্যটন ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে গতি আনার মতো বিষয়গুলি বাজেটে অগ্রাধিকার পেতে পারে।
গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কৃষি, মৎস্যচাষ, সেচ ব্যবস্থা, ফসল সংরক্ষণ এবং কৃষক কল্যাণমূলক প্রকল্পে অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রত্যাশাও রয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকরা বাজেটের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন নতুন সহায়তা ও সুবিধার আশায়।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও কম নয়। মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে স্বস্তি, উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা, দ্রুত প্রশাসনিক পরিষেবা, ভালো রাস্তা এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পে আরও বেশি সুবিধা চান রাজ্যবাসী। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ‘সংকল্পপত্রের প্রতিশ্রুতি পূরণ’-এর কথা বারবার তুলে ধরেছে। ফলে প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটকে অনেকেই দেখছেন আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন রূপরেখার ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে।
এখন দেখার, প্রত্যাশা আর বাস্তবতার মধ্যে কতটা সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে পারে শুভেন্দু অধিকারী সরকারের প্রথম বাজেট।
রাজ্য
প্রথম বাজেটে কী চমক? প্রতিশ্রুতি পূরণে কতটা এগোবে শুভেন্দু সরকার, তাকিয়ে গোটা বাংলা
ডিএ, মহিলাদের আর্থিক সহায়তা, কর্মসংস্থান, কৃষি ও পরিকাঠামো—প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে বিজেপি সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের রূপরেখা খুঁজছে রাজ্যবাসী।