বাংলার গৌরবময় ইতিহাস বিশ্বদরবারে তুলে ধরার অঙ্গীকার, ‘পিছিয়ে পড়া বাংলা’কে ‘অগ্রসর বাংলা’ গড়ার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে তারকেশ্বরে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনতার উচ্ছ্বাস ও আবেগের মধ্যেই বাংলার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বাংলার গৌরবময় অতীত, স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলার অবদান এবং আগামী দিনে রাজ্যের উন্নয়নের রূপরেখা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের জাতীয় আন্দোলনের ইতিহাসে বাংলার অবদান অনস্বীকার্য। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, সমাজ সংস্কার আন্দোলন এবং সাংস্কৃতিক জাগরণের ক্ষেত্রে বাংলা যে নেতৃত্ব দিয়েছে, তা গোটা জাতির কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। তবে দীর্ঘদিন ধরে বাংলার প্রকৃত ইতিহাস, বীরত্বগাথা এবং আত্মত্যাগের কাহিনি নতুন প্রজন্মের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি দাবি করেন, বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং জাতীয়তাবাদী চেতনার ইতিহাসকে নতুন করে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই রাজ্যের নতুন সরকার কাজ করবে বলে আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, বাংলার হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরিয়ে এনে রাজ্যকে উন্নয়ন ও সম্ভাবনার নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়াই আগামী দিনের লক্ষ্য।
ভাষণে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন Syama Prasad Mukherjee-র ভাবনা ও স্বপ্নের কথা। তাঁর মতে, বাংলার উন্নয়ন এবং জাতীয় জীবনে আরও বড় ভূমিকা পালনের মধ্য দিয়েই সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, উন্নয়নের সুফল সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। বিশেষ করে প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একযোগে কাজ করবে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তার মতো ক্ষেত্রগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তাও দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বারবার থেমে যায় উপস্থিত মানুষের করতালি ও উচ্ছ্বাসে। জনসমাগম এবং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে তিনি বাংলার উন্নয়নের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা ও আস্থার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।
শেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাংলা আবারও দেশের অগ্রগতির অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে এবং তার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সাফল্যের কাহিনি শুধু ভারতেই নয়, বিশ্বদরবারেও নতুন করে সমাদৃত হবে।