আগামীকাল পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে হুগলির তারকেশ্বরের বালিগড়ি মাঠে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসভা। প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে জোর কদমে। সকাল থেকে অঝোর বৃষ্টিতে সভাস্থলে জল জমে গেলেও প্রশাসন ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মীরা দিনরাত এক করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তারকেশ্বর-বৈদ্যবাটি ১২ নম্বর সড়কের পাশে অবস্থিত বালিগড়ি মাঠে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সভাস্থলে ইতিমধ্যেই পাঁচটি বিশাল হ্যাঙ্গার তৈরি করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের জন্য অস্থায়ী হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়েছে।
বৃষ্টির কারণে মাঠের একাধিক অংশে জল জমে যাওয়ায় প্রশাসনের তরফে পাম্প বসিয়ে জল বের করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠে বালি, স্টোন চিপসের গুঁড়ো এবং বালির বস্তা ফেলে চলাচলের উপযোগী করে তোলার কাজ চলছে।
চন্দননগরের বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ এবং তারকেশ্বরের বিজেপি নেতা সন্তু পান প্রস্তুতির কাজ পরিদর্শন করেন। তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হুগলি জেলা শাসক খুরশিদ আলি কাদরী।
দীপাঞ্জন গুহ জানান, পূর্ত, বিদ্যুৎ, দমকল-সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। জল নিষ্কাশন থেকে শুরু করে মাঠ প্রস্তুত করা—সব ক্ষেত্রেই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সন্তু পান বলেন, “প্রতিকূলতা থাকবেই, কিন্তু তা কীভাবে জয় করতে হয় আমরা জানি। প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে তারকেশ্বরে উৎসবের আবহ তৈরি হবে। দুই লক্ষেরও বেশি মানুষের উপস্থিতি হবে বলে আমরা আশা করছি।”
সভামঞ্চ ও মণ্ডপ ফুল দিয়ে সাজানোর কাজও চলছে। নিরাপত্তার জন্য মেটাল ডিটেক্টর, ব্যারিকেড এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসপিজি (SPG) দলের সদস্যরা পৌঁছে গিয়েছেন। গতকাল অস্থায়ী হেলিপ্যাডে হেলিকপ্টার ট্রায়ালও সম্পন্ন হয়েছে।
বিজেপির দাবি, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তারকেশ্বরের মাটিতেই পশ্চিমবঙ্গের ভারতের সঙ্গে থাকার পক্ষে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। সেই দিন এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে স্মরণ করেই পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন করা হবে।
রাজ্য
পশ্চিমবঙ্গ দিবসে তারকেশ্বরে প্রধানমন্ত্রী মোদির মহাসভা, বৃষ্টির মধ্যেও জোরকদমে প্রস্তুতি
বালিগড়ি মাঠে জল জমলেও থেমে নেই আয়োজন। পাম্প বসিয়ে জল নিষ্কাশন, নিরাপত্তায় এসপিজি মোতায়েন। দুই লক্ষাধিক মানুষের সমাগমের আশা বিজেপি নেতৃত্বের।