উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় টানা বর্ষণে ফের দুর্যোগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিস্তা নদীর জলস্তর বেড়েছে, একাধিক এলাকায় ধস নেমে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুধিয়া এলাকায় জলের তোড়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেসে গিয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই আলিপুরদুয়ারের হাসিমারায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় চার বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসিমারার ভোলা নালা সংলগ্ন একটি চা বাগান এলাকায় দুর্ঘটনায় শিশুটির মৃত্যু হয়। মৃতের পরিবারকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে চার লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রবল বৃষ্টির জেরে শিলিগুড়ি পুরসভা এলাকা, দার্জিলিঙের রাংলি রাংলিয়ট, ফাঁসিদেওয়া এবং মিরিক ব্লক সহ একাধিক জায়গায় ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুধিয়া এলাকা, যেখানে কয়েক মাস আগে নির্মিত একটি ভেন্টেড কজওয়ে বা সেতু সম্পূর্ণভাবে ভেসে গিয়েছে। এই ঘটনায় সেতু নির্মাণের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা। পূর্ত দফতর ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে বিকল্প রাস্তা চালু করা সম্ভব হবে।
এদিন প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক, লেবং কার্ট রোড, গয়াবাড়ি, মংপু সহ বিভিন্ন এলাকায় ছোট ও মাঝারি আকারের ধস নামলেও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাস্তা পরিষ্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে।
অন্যদিকে, মেখলিগঞ্জ এলাকায় তিস্তা নদীর জলস্তর বিপদসীমার সামান্য উপরে থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি। পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে নবান্ন, সেচ দফতর এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ চলছে। মুখ্যসচিব রাজেশ সিনহা, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করা হচ্ছে।
পাহাড়ে দুর্যোগের সময় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত কোথাও বড় সংখ্যায় পর্যটক আটকে পড়ার খবর নেই। প্রয়োজনে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করে প্রশাসনের উদ্যোগে পর্যটকদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও পাহাড়ের অন্তত ২৫টি ধসপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পরিকল্পনা শুরু করেছে রাজ্য সরকার। জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার সহযোগিতায় ধসের আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা বা ল্যান্ডস্লাইড অ্যালার্ট সিস্টেম চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।