আসন্ন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। ২১ জুন রবিবার আয়োজিত যোগ দিবসের কর্মসূচিতে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয় বলে কলকাতা হাইকোর্টে স্পষ্ট জানিয়ে দিল রাজ্য সরকার। সেইসঙ্গে আদালতও নির্দেশ দিয়েছে, কোনও সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মী যোগ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ না করলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ধরনের শাস্তিমূলক বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।
এই বিষয়ে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে বিচারপতি অমৃতা সিনহা স্পষ্টভাবে বলেন, যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী। কোনও ব্যক্তি ব্যক্তিগত, শারীরিক বা অন্য কোনও কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পারলে তাঁকে বাধ্য করা যাবে না।
আদালতে জমা দেওয়া হলফনামায় রাজ্য সরকার জানায়, কখনওই সরকারি কর্মচারীদের বাধ্যতামূলকভাবে যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়নি। মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের বক্তব্য অনুযায়ী, শারীরিক অসুস্থতা, ব্যক্তিগত কারণ বা অন্য কোনও বৈধ কারণে কেউ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে না পারলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের প্রশ্নই ওঠে না।
তবে মামলাকারীদের পক্ষের আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, যদি অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক না হয়, তাহলে সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে জারি হওয়া নির্দেশিকায় ‘মাস্ট অ্যাটেনডেন্স’ বা বাধ্যতামূলক উপস্থিতির উল্লেখ কেন করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, সাংবিধানিক প্রশ্নের মুখে পড়েই রাজ্য সরকার আদালতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বাধ্য হয়েছে।
যদিও রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, নির্দেশিকার ভুল ব্যাখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। সরকারের উদ্দেশ্য ছিল যোগ দিবসের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে উৎসাহ দেওয়া, কাউকে বাধ্য করা নয়।
আদালতে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার পর রাজ্যের সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, আদালতের এই পর্যবেক্ষণ কর্মীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
সব মিলিয়ে, যোগ দিবসের অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যে কলকাতা হাইকোর্টের এই অবস্থান এবং রাজ্য সরকারের স্পষ্টীকরণ সরকারি কর্মীদের জন্য বড় স্বস্তি এনে দিল।