আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে এ বছর বাংলায় তিন দিনের এক বৃহৎ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই প্রথম এত বড় মাপের কেন্দ্রীয় কর্মসূচিকে ঘিরে রাজ্য প্রশাসনের উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ১৯ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত চলা এই বিশেষ উদ্যাপনের বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্য যোগকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই আয়োজন।
১৯ জুন: ‘রান ফর যোগা’ ম্যারাথন
তিন দিনের অনুষ্ঠানের সূচনা হবে ১৯ জুন ‘রান ফর যোগা’ ম্যারাথনের মাধ্যমে। কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এই দৌড়ের আয়োজন করা হয়েছে। কলকাতার মূল কর্মসূচি শুরু হবে কলকাতা পুরসভার সদর দফতরের সামনে থেকে এবং শেষ হবে ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংসের সামনে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে অংশগ্রহণকারীরা সমবেত হবেন এবং সকাল ৭টা থেকে শুরু হবে ম্যারাথন। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ নাম নথিভুক্ত করেছেন বলেও তিনি জানান।
২০ জুন: গঙ্গার বুকে ‘বন্দে যোগম’, আকাশে ৩ হাজার ড্রোন
উদ্যাপনের দ্বিতীয় দিন ২০ জুন, যা পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবেও পালিত হয়, সেদিন গঙ্গার বুকে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ ড্রোন প্রদর্শনীর। ‘বন্দে যোগম’ নামে এই কর্মসূচিতে সন্ধ্যার আকাশে একসঙ্গে উড়বে প্রায় ৩ হাজার ড্রোন।
ড্রোনের আলোর মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হবে যোগাভ্যাসের বিভিন্ন মুদ্রা, ভারতীয় সংস্কৃতির নানা প্রতীক এবং বাংলার ঐতিহ্যের বিশেষ উপাদান। প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে এই অনুষ্ঠান দর্শকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে বলে মনে করছে প্রশাসন।
২১ জুন: রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী মোদী
আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠান হবে ২১ জুন সকালে কলকাতার রেড রোডে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে জমায়েত শুরু হবে এবং আধ ঘণ্টা পরে মূল যোগাভ্যাস কর্মসূচি শুরু হবে। হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীও যোগাভ্যাসে অংশ নেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে রেড রোড ও সংলগ্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই জোরকদমে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
পরিচ্ছন্ন কলকাতার আহ্বান
যোগ দিবসের কর্মসূচির পাশাপাশি শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’-এর প্রসঙ্গ তুলে তিনি রাজ্যবাসীর কাছে আবেদন করেন, নিজেদের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রেখে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর জন্য।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর এবং তিন দিনের এই বৃহৎ আয়োজন শুধুমাত্র একটি সাংস্কৃতিক বা স্বাস্থ্য বিষয়ক অনুষ্ঠান নয়, বরং কেন্দ্র ও রাজ্যের নতুন সমন্বয়ের বার্তাও বহন করছে। এখন দেখার, এই মহাউদ্যাপনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ কতটা হয়।