তৃণমূলে শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন কমিটি, দোলা-ডেরেকদের দায়িত্ব দিলেন মমতা
কলকাতা

তৃণমূলে শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন কমিটি, দোলা-ডেরেকদের দায়িত্ব দিলেন মমতা

অরূপ-ফিরহাদদের সরিয়ে নতুন মুখের উপর ভরসা; একের পর এক নেতার পদত্যাগ ও দলত্যাগের আবহে সাংগঠনিক রাশ টানতে উদ্যোগ তৃণমূল নেতৃত্বের

শেয়ার
X WhatsApp

তৃণমূলে শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন কমিটি, দোলা-ডেরেকদের দায়িত্ব দিলেন মমতা

কলকাতা: দলীয় ভাঙন, পদত্যাগ এবং সাংগঠনিক অস্থিরতার আবহে তৃণমূল কংগ্রেসে নতুন করে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উদ্যোগী হলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের শৃঙ্খলারক্ষা ও সাংগঠনিক নজরদারির জন্য নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে স্থান পেয়েছেন দোলা সেন, ডেরেক ও’ব্রায়েন, অসীমা পাত্র, শুভাশিস চক্রবর্তী এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে একাধিক সাংগঠনিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দলীয় সূত্রের খবর, একাধিক নেতা সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে নেতৃত্বের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। কেউ কেউ আবার দল থেকেও দূরত্ব তৈরি করছেন। এই পরিস্থিতিতে দলের শৃঙ্খলা ও সংগঠনকে চাঙ্গা করতেই নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরে তৃণমূল কংগ্রেস তিন স্তরে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি গঠন করেছিল—সংসদীয়, পরিষদীয় এবং দলীয় স্তরে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই কমিটিগুলির বেশ কয়েকজন সদস্য দলীয় অবস্থান থেকে সরে গিয়েছেন বা ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। ফলে কার্যত পুরনো কাঠামো পুনর্গঠনের প্রয়োজন দেখা দেয়।

এর আগে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটিতে ছিলেন সুব্রত বক্সি, অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম, সুজিত বসু এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। বর্তমানে অসুস্থতার কারণে সুব্রত বক্সি সক্রিয় সাংগঠনিক দায়িত্বে নেই। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে দলীয় সভানেত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে নতুন মুখদের সামনে আনা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় সমস্ত কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন করে সাংগঠনিক কাঠামো গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। রাজ্য থেকে জেলা স্তর পর্যন্ত নতুন কমিটি গঠন করা হয়। সেখানে প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে সম্প্রতি কয়েকটি জেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের পদত্যাগ দলের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে প্রদীপ সরকারের পদত্যাগ, পূর্ব বর্ধমানের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং পশ্চিম বর্ধমানের সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর দায়িত্ব ছাড়ার ঘটনা দলীয় অন্দরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংগঠনের ভিত মজবুত রাখতে এবং কর্মীদের মধ্যে বার্তা পৌঁছে দিতে নতুন শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই কমিটি কতটা কার্যকর হয় এবং কতদিন স্থায়ী থাকে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

KOLOROB Note

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে আমাদের Contact পৃষ্ঠার মাধ্যমে জানান। যাচাই শেষে সংশোধনী প্রকাশ করা হবে।

সম্পর্কিত খবর আরও →
পশ্চিমবঙ্গ দিবস বিতর্কে কংগ্রেসের গণ-অবস্থান, ‘বাংলা ভাগের ইতিহাস বিকৃত করা হচ্ছে’ অভিযোগ শুভঙ্কর সরকারের
কলকাতা

পশ্চিমবঙ্গ দিবস বিতর্কে কংগ্রেসের গণ-অবস্থান, ‘বাংলা ভাগের ইতিহাস বিকৃত করা হচ্ছে’ অভিযোগ শুভঙ্কর সরকারের

পাঠ্যপুস্তকে শ্যামাপ্রসাদ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবসের ‘আসল ইতিহাস’ অন্তর্ভুক্তির দাবি, বিধানসভায় সরব মন্ত্রীরা
কলকাতা

পাঠ্যপুস্তকে শ্যামাপ্রসাদ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবসের ‘আসল ইতিহাস’ অন্তর্ভুক্তির দাবি, বিধানসভায় সরব মন্ত্রীরা

যোগ দিবসে হাজিরা বাধ্যতামূলক নয়, সরকারি কর্মীদের স্বস্তি দিল কলকাতা হাইকোর্ট
কলকাতা

যোগ দিবসে হাজিরা বাধ্যতামূলক নয়, সরকারি কর্মীদের স্বস্তি দিল কলকাতা হাইকোর্ট

যোগ দিবসে বাধ্যতামূলক উপস্থিতি বিতর্কে রাজ্যের হলফনামা চাইল কলকাতা হাইকোর্ট
কলকাতা

যোগ দিবসে বাধ্যতামূলক উপস্থিতি বিতর্কে রাজ্যের হলফনামা চাইল কলকাতা হাইকোর্ট