মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে যখন নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, ঠিক সেই সময়েই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে নিয়ে সুর বদল করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েক সপ্তাহ আগেও যাঁকে ‘উন্মাদ’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন, এবার সেই নেতানিয়াহুকেই ‘একজন প্রকৃত যোদ্ধা’ বলে প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন তিনি।
ওয়াশিংটনে নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানের উদ্বোধনের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে অসাধারণ লড়াই করেছে। নেতানিয়াহু একজন সত্যিকারের যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী এবং এই কৃতিত্ব তাঁরই প্রাপ্য।”
ট্রাম্পের এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে উদ্বেগ বাড়ছে। দক্ষিণ লেবানন ও বেইরুটে ইজরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর জেরে সুইৎজারল্যান্ডে নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনা বাতিল হয়েছে বলেও খবর।
তবে ট্রাম্প শুধু প্রশংসাই করেননি, ইজরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে নিজের প্রভাবের কথাও তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, “ইজরায়েল আমাকে সম্মান করে। কিছু ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুকে পাগলামি করা থেকে আমাদের বিরত রাখতে হয়।” এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, দুই দেশের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলেও বিভিন্ন ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ইরান ও আমেরিকার মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেই চুক্তিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাত এড়ানো এবং লেবানন-সহ বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ বন্ধ রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে লেবাননে ইজরায়েলের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকায় প্রশ্ন উঠছে শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়েও।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরের শেষ দিকে ইজরায়েলে জাতীয় নির্বাচন রয়েছে। নির্বাচনের আগে হেজবোল্লার বিরুদ্ধে অভিযান থামালে তার রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে নেতানিয়াহু শিবিরে। সেই কারণেই ইরানের উপর সর্বোচ্চ চাপ বজায় রাখার পক্ষে রয়েছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী।
এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের আচমকা সুর বদলকে নিছক প্রশংসা হিসেবে দেখছেন না কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূ-রাজনীতির মাঝে নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত রাখার কৌশল হিসেবেই এই মন্তব্য করে থাকতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফলে শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ, লেবাননের পরিস্থিতি এবং ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক সমীকরণ আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।