ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাতের আবহে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল মধ্যপ্রাচ্য। শান্তিচুক্তির মাত্র একদিনের মধ্যেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার ঘোষণা করল ইরান। শনিবার তেহরানের শীর্ষ যৌথ সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স’ জানায়, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে আমেরিকা ও ইজরায়েল। তারই জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইরানের সামরিক নেতৃত্বের দাবি, দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধবিরতির পরেও ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজরায়েল। পাশাপাশি আমেরিকার বিরুদ্ধেও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে সরকারি বিবৃতিতে।
শুধু তাই নয়, তেহরান এই সিদ্ধান্তকে ‘প্রথম পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেছে। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, যদি আমেরিকা ও ইজরায়েল তাদের আগ্রাসী নীতি অব্যাহত রাখে, তাহলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-ও পৃথক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল আপাতত বন্ধ। এই অঞ্চলের কাছে কোনও নৌযান এলে তা নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে খবর ছড়িয়েছিল যে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। শনিবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। তবে গোটা পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্যে। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ এখনও খোলা রয়েছে এবং বাণিজ্যিক নৌচলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ করিডর হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী। এই জলপথে অচলাবস্থা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তার ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন এই উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপর কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন নজর কূটনৈতিক মহলের।