কন্যাসন্তান জন্মের আনন্দে ব্যতিক্রমী উদযাপন! হাসপাতাল চত্বরে হাজার রসগোল্লা বিতরণ, ব্যান্ড-বাজনা ও সাজোয়া গাড়িতে বাড়ি ফিরল নবজাতিকা
উত্তর ২৪ পরগনা

কন্যাসন্তান জন্মের আনন্দে ব্যতিক্রমী উদযাপন! হাসপাতাল চত্বরে হাজার রসগোল্লা বিতরণ, ব্যান্ড-বাজনা ও সাজোয়া গাড়িতে বাড়ি ফিরল নবজাতিকা

হাবড়ায় কন্যাসন্তান জন্মকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন আয়োজন। হাসপাতাল থেকে সদ্যোজাতকে বাড়ি নিয়ে যেতে ব্যান্ড পার্টি, সাজোয়া গাড়ি, মিষ্টি বিতরণ—মেয়েশিশুর মর্যাদা ও সমতার বার্তা দিল মাহাতো পরিবার।

শেয়ার
X WhatsApp

কন্যাসন্তান জন্মের আনন্দে ব্যতিক্রমী উদযাপন, হাসপাতাল চত্বরে মিষ্টি বিতরণ থেকে সাজোয়া গাড়িতে বাড়ি ফেরা

হাবড়ার একটি হাসপাতাল চত্বরে সোমবার দেখা গেল এক বিরল দৃশ্য। হাসপাতালের সামনে বড় বড় পাত্রে সাজানো রয়েছে প্রায় এক হাজার রসগোল্লা, সঙ্গে শতাধিক জলের বোতল। পাশে দাঁড়িয়ে সাজোয়া গাড়ি, বাজছে ব্যান্ড পার্টির সুর। প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন কোনও রাজনৈতিক বা সামাজিক কর্মসূচি চলছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই সামনে আসে আসল কারণ।

সদ্যোজাত কন্যাসন্তানকে কোলে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসছিলেন জনি মাহাতো ও নবমাতা লিপিকা মাহাতো। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। কন্যাসন্তান জন্মের আনন্দে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে মাহাতো পরিবার।

বাইরে অপেক্ষা করছিল চমক

পরিবারের এই বিশাল আয়োজন সম্পর্কে আগে থেকে কিছুই জানতেন না সদ্য মা হওয়া লিপিকা মাহাতো। হাসপাতালের বাইরে বেরিয়ে ব্যান্ড-বাজনা, সাজোয়া গাড়ি এবং মিষ্টি বিতরণের দৃশ্য দেখে তিনি আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।

পরিবারের সদস্যরা শুধু নিজেদের আনন্দেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। হাসপাতাল চত্বরে উপস্থিত রোগীর পরিজন, সাধারণ মানুষ এবং পথচলতি বহু মানুষের মধ্যে মিষ্টি ও পানীয় জল বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি নবজাতিকা ও তার মাকে সম্মানের সঙ্গে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও করা হয়।

সমাজকে বার্তা দিতে এই উদ্যোগ

পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, বর্তমান সময়ে মেয়েরা কোনও অংশেই ছেলেদের থেকে পিছিয়ে নেই। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, প্রশাসন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নারীরা নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছেন।

তাঁদের কথায়, “মেয়ে সন্তান জন্ম নেওয়া আনন্দের বিষয়। এখনও সমাজের অনেক জায়গায় কন্যাসন্তানকে অবহেলা করা হয়। আমরা সেই মানসিকতার বিরুদ্ধে বার্তা দিতে চাই। দেশের রাষ্ট্রপতিও একজন মহিলা। তাই মেয়েদের সম্মান, শিক্ষা ও যত্ন নিশ্চিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।”

সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত

অনেক ক্ষেত্রেই কন্যাসন্তান জন্মের পর পরিবারের তরফে মায়েদের নানা ধরনের মানসিক চাপ বা অবহেলার শিকার হতে হয়। কোথাও কোথাও পারিবারিক সম্পর্কেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সেই প্রেক্ষাপটে মাহাতো পরিবারের এই উদ্যোগ সমাজে এক ইতিবাচক বার্তা হিসেবে ধরা পড়েছে।

হাসপাতালে উপস্থিত অন্যান্য রোগীর আত্মীয়-পরিজনেরাও এই ব্যতিক্রমী আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, কন্যাসন্তানের জন্মকে এভাবে উৎসবে পরিণত করা সমাজে নারী-পুরুষ সমতার বার্তা আরও শক্তিশালী করবে।

নারীশক্তির সম্মানেই উৎসব

স্থানীয়দের একাংশের মতে, কন্যাসন্তানের জন্মকে ঘিরে এমন উদযাপন শুধু একটি পরিবারের আনন্দ নয়, বরং সমাজে নারীর মর্যাদা ও সম্মানের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা। মেয়েদের এগিয়ে যাওয়ার পথকে আরও মজবুত করতেই এমন উদ্যোগ অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে বলেই মনে করছেন অনেকে।

KOLOROB Note

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে আমাদের Contact পৃষ্ঠার মাধ্যমে জানান। যাচাই শেষে সংশোধনী প্রকাশ করা হবে।