স্মার্ট মিটারে বেশি টাকার রিচার্জই কেন লাভজনক?
দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গেও ধীরে ধীরে প্রচলিত বিদ্যুৎ মিটারের পরিবর্তে ডিজিটাল প্রি-পেইড স্মার্ট মিটার চালু করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বহু এলাকায় স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। এই ব্যবস্থায় মোবাইল ফোনের মতো আগে থেকে টাকা রিচার্জ করেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হয়। ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
অনেক গ্রাহকের অভিযোগ, ১০০ বা ২০০ টাকার রিচার্জ খুব দ্রুত শেষ হয়ে যায়। ফলে অনেকেরই ধারণা হয় স্মার্ট মিটার হয়তো বেশি ইউনিট দেখাচ্ছে বা ভুলভাবে টাকা কেটে নিচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন।
কেন দ্রুত শেষ হয় কম টাকার রিচার্জ?
স্মার্ট মিটারে শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিলই কাটা হয় না। এর পাশাপাশি প্রতিদিন নির্দিষ্ট কিছু ফিক্সড চার্জ, বিদ্যুৎ শুল্ক, মিটার পরিষেবা ফি এবং অন্যান্য নির্ধারিত খরচও কেটে নেওয়া হয়। এই চার্জ বিদ্যুৎ ব্যবহার কম হলেও প্রতিদিন প্রযোজ্য হয়।
যদি কোনও পরিবারে দৈনিক ৩ থেকে ৪ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়, তাহলে ১০০ টাকার রিচার্জ সাধারণত মাত্র ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যেতে পারে।
১,০০০ টাকার রিচার্জ করলে কী সুবিধা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, একবারে ১,০০০ টাকার মতো রিচার্জ করলে একই দৈনিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ থেকে ৩২ দিন পর্যন্ত পরিষেবা পাওয়া সম্ভব।
অবশ্য বাড়িতে যদি এসি, গিজার, হিটার বা অন্যান্য বেশি বিদ্যুৎ খরচকারী যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, তাহলে রিচার্জের মেয়াদ কিছুটা কমতে পারে।
কেন বেশি টাকার রিচার্জ সুবিধাজনক?
বারবার রিচার্জ করার ঝামেলা থাকে না।
ব্যালেন্স শেষ হয়ে হঠাৎ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা কমে।
প্রতিদিন মিটার বা অ্যাপ চেক করার প্রয়োজন হয় না।
মাসিক বিদ্যুৎ খরচের পরিকল্পনা করা সহজ হয়।
জরুরি সময়ে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবারের দৈনিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব করে অন্তত ১৫ দিন বা এক মাসের জন্য একবারে রিচার্জ করাই বেশি সুবিধাজনক। এতে বারবার রিচার্জের ঝামেলা যেমন কমে, তেমনি বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়েও নিশ্চিন্ত থাকা যায়।
SEO Title