তারাতলা বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে কলকাতা পুরসভার বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ তুলে বিধানসভায় বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, কলকাতা পুরসভায় বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র কাজ করেছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ‘কালী’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তি।
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কালীকে ধরলেই সব কিছু বেরিয়ে আসবে।” এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর ইঙ্গিত কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি (OSD) কালিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কলকাতা পুরসভা এলাকায় বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পের বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রে বছরের পর বছর ধরে একটি অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া চলেছে। তারাতলার যে বহুতল প্রকল্পে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেই প্রকল্পের অনুমোদিত নকশাও বিধানসভায় তুলে ধরেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ওই নকশায় প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারদের স্বাক্ষর রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “এই বিল্ডিং প্ল্যানে যাঁরা সই করেছেন, তাঁদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, বিগত ১৫ বছরে আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে একাধিক নির্মাণ প্রকল্পে নিয়ম ভাঙা হয়েছে। তাঁর দাবি, ত্রুটিপূর্ণ নকশা ও নির্মাণগত গাফিলতির কারণেই তারাতলার মতো দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এই প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার কলকাতা পুরসভা, রাজারহাট-নিউটাউন, মহেশতলা, বজবজ, পূজালি, সোনারপুর এবং বারুইপুর পুর এলাকায় চলমান বাণিজ্যিক নির্মাণ প্রকল্পগুলির ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করেছে। আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলির কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকার ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের অডিট কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটিতে বিভিন্ন দফতরের শীর্ষ আমলা, কলকাতা পুলিশের নগরপাল, কলকাতা পুরসভার প্রশাসক, আইআইটি খড়্গপুরের বিশেষজ্ঞ এবং রাইটস-এর প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটির কাজ হবে নির্মীয়মাণ প্রকল্পগুলির নিরাপত্তা, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং নির্মাণ মান যাচাই করা।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, “মানুষের জীবন নিয়ে কোনও রকম আপস এই সরকার করবে না। সমস্ত প্রকল্পের অডিট সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চলবে।”
তারাতলা বিপর্যয়ের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগ রাজ্যের নির্মাণ ও নগর উন্নয়ন ব্যবস্থাকে ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।