প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী ভূ-কৈলাস রাজবাড়ি ও শিবমন্দির চত্বর ঘিরে ফের সামনে এসেছে অবৈধ নির্মাণ ও দখলের অভিযোগ। কলকাতার পোর্ট বিধানসভা এলাকার ৭৯ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনার আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে চলা নির্মাণকাজ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মন্দির-সংলগ্ন জমিতে বছরের পর বছর ধরে দখলদারি হয়েছে এবং একাধিক স্থানে বহুতল পাকা নির্মাণ গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি খোলা জমি বাণিজ্যিক পার্কিংসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সংরক্ষিত এলাকায় নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঐতিহাসিক ও সংরক্ষিত স্থাপনার নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে নতুন নির্মাণের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। তা সত্ত্বেও বছরের পর বছর ধরে নির্মাণকাজ চলেছে এবং অস্থায়ী কাঠামোর পরিবর্তে স্থায়ী ভবন তৈরি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, সময়মতো প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর হয়েছে কি?
ভূ-কৈলাস কল্যাণ কেন্দ্রের মহাসচিব সীতারাম দাবি করেছেন, হাইকোর্ট অবৈধ নির্মাণ সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিলেও বাস্তবে কেবল ভবনের ছাদ ভাঙা হয়েছে, পুরো কাঠামো এখনও রয়ে গেছে।
সূত্রের দাবি, এই মামলায় কলকাতা পুরসভা আদালতে একটি কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দেয়। শুনানির সময় আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, শুধুমাত্র ছাদ অপসারণ করা হয়েছে, অথচ মূল কাঠামো এখনও অক্ষত রয়েছে। এরপর আদালত আগের নির্দেশ অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ নির্মাণ অপসারণ করে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত তারিখে হবে।
অগ্রিম অর্থ জমা দেওয়া ক্রেতাদের উদ্বেগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিতর্কিত নির্মাণ প্রকল্পগুলিতে বহু মানুষ ফ্ল্যাট বা অন্যান্য সম্পত্তির জন্য অগ্রিম অর্থ জমা দিয়েছেন। ভবিষ্যতে আদালতের নির্দেশে নির্মাণ ভেঙে ফেলা হলে তাঁদের বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ফলে কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
ঐতিহ্য রক্ষায় যৌথ অভিযানের দাবি
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসন, পুলিশ, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এবং কলকাতা পুরসভার কাছে যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে পুরো এলাকা দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ভূ-কৈলাস রাজবাড়ি এবং এখানে অবস্থিত রক্ত মহাকালেশ্বর ও চন্দ্র মহাকালেশ্বর শিবলিঙ্গ পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের অংশ। তাই এই ঐতিহ্য সংরক্ষণে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, সময়মতো সমন্বিত প্রশাসনিক উদ্যোগ না নেওয়া হলে এই ঐতিহাসিক ঐতিহ্য অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।