রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর রাজনৈতিক কৌশলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল তৃণমূল কংগ্রেস। নতুন সরকারের প্রথম বাজেট পেশের পর সরাসরি আক্রমণের পথে না হেঁটে ‘গঠনমূলক বিরোধিতা’র বার্তা দিল বিরোধী দল। দলের মুখপাত্র Kunal Ghosh স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, শুরু থেকেই সর্বাত্মক বিরোধিতার পথে হাঁটবে না তৃণমূল; বরং সরকারকে কাজের সুযোগ দেওয়া হবে।
বাজেট পেশের পর সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল ঘোষ বলেন, “আমরা সময় দিচ্ছি। আজ প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। বাজেটের সমস্ত নথি বিশ্লেষণ করবে দলের নেতৃত্ব। সরকার যে প্রতিশ্রুতিগুলি দিয়েছে, সেগুলি বাস্তবায়িত হলে মানুষের উপকার হবে। তবে না হলে জনস্বার্থে প্রতিবাদও হবে।”
তৃণমূলের অভিযোগ, নতুন বাজেটের বড় অংশই কেন্দ্রের উপর নির্ভরশীল। কুণাল ঘোষের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন Mamata Banerjee-র সরকারকে বহু ক্ষেত্রেই কেন্দ্রের আর্থিক সহযোগিতা ছাড়াই রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালাতে হয়েছে। সেই কারণে রাজ্যের বাজেট ছিল ‘স্বনির্ভর বাংলা’র বাজেট। কিন্তু বর্তমান বাজেটে বারবার কেন্দ্রীয় প্রকল্প ও দিল্লির সহযোগিতার উল্লেখ করা হয়েছে।
তাঁর কথায়, “অর্থমন্ত্রী বহু ক্ষেত্রে অর্থ বরাদ্দের কথা বলেছেন। কারণ তাঁদের কাছে এখন অর্থের জোগান রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সময় ইচ্ছা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক সীমাবদ্ধতা ছিল। কিন্তু এই বাজেটে খরচের কথা থাকলেও সেই অর্থ কোথা থেকে আসবে, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। সবটাই কি দিল্লির অর্থের উপর নির্ভর করবে?”
বিরোধী শিবির আরও দাবি করেছে, বাজেটে যেসব প্রকল্প ও পরিকাঠামোর কথা বলা হয়েছে, তার অনেকগুলির ভিত্তি পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলেই তৈরি হয়েছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পে উপভোক্তার সংখ্যা কমানোর ইঙ্গিতও দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের এই অবস্থান তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পর প্রথমবার বিরোধী আসনে বসে দলটি সরাসরি সংঘাতের বদলে ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ নীতি গ্রহণ করছে। সরকারকে কিছুটা সময় দিয়ে তার কার্যকারিতা বিচার করার কৌশলই আপাতত নিতে চাইছে তারা।
যদিও কুণাল ঘোষ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সরকারের ভালো উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হলেও নীতিগত প্রশ্নে আপস করবে না তৃণমূল। প্রয়োজন হলে জনস্বার্থে আন্দোলন ও প্রতিবাদের পথেও হাঁটবে বিরোধী দল।