শেষ পর্যন্ত জল্পনাই সত্যি হল। দলীয় চাপের মুখে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী পদ এবং লেবার পার্টির নেতৃত্ব থেকে পদত্যাগের ঘোষণা করলেন কিয়ের স্টারমার। তবে নতুন দলীয় নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাবেন।
মাত্র দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ঋষি সুনকের নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভ পার্টিকে পরাজিত করে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল লেবার পার্টি। সেই জয়ের পরই ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হন স্টারমার। কিন্তু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জনজীবনের নানা সমস্যা ও সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রমশ অসন্তোষ বাড়ছিল দলের অন্দরেই।
বিশেষ করে জেফ্রি এপস্টাইনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে বিতর্কিত পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত স্টারমার সরকারের ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা দেয়। পাশাপাশি সাম্প্রতিক জনমত সমীক্ষায় দেখা যায়, লেবার পার্টির একাংশের সমর্থন গ্রিন পার্টির দিকে সরে যাচ্ছে। অন্যদিকে দ্রুত শক্তি বাড়াচ্ছে রিফর্ম ইউকে পার্টি।
এর মধ্যেই সংসদের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের জয় স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দেয়। লেবার পার্টির একাংশ প্রকাশ্যেই বার্নহ্যামকে ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরতে শুরু করে।
অবশেষে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে দাঁড়িয়ে পদত্যাগের ঘোষণা করেন ৬৩ বছর বয়সী স্টারমার। তিনি বলেন, “দল জানতে চাইছে, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমিই কি সেরা ব্যক্তি? আমার সংসদীয় দলের উত্তর আমি শুনেছি এবং তা সসম্মানে মেনে নিচ্ছি। দেশের স্বার্থকেই সবসময় অগ্রাধিকার দিয়েছি। সেই কারণেই আমি লেবার পার্টির নেতৃত্ব থেকে পদত্যাগ করছি।”
ভাষণের শেষে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন স্টারমার। তিনি লেবার পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটিকে দ্রুত নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী ৯ জুলাই থেকে মনোনয়ন গ্রহণ শুরু হবে এবং ১৬ জুলাই তা শেষ হবে।
স্টারমারের পদত্যাগের ফলে গত এক দশকে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পাওয়ার পথে এগোল ব্রিটেন। এখন রাজনৈতিক মহলের নজর লেবার পার্টির নেতৃত্বের লড়াইয়ে। সেই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তিনি শেষ পর্যন্ত ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হন কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।