জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে ইউরোপ জুড়ে। নজিরবিহীন তাপপ্রবাহে ফ্রান্স, স্পেন, ব্রিটেনসহ একাধিক দেশ কার্যত দগ্ধ হচ্ছে। তীব্র গরমের জেরে ফ্রান্সে ইতিমধ্যেই তিন প্রবীণের মৃত্যুর খবর মিলেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির ৪৯টি অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে প্রশাসন।
ফ্রান্স সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চরম তাপপ্রবাহের কারণে প্রায় ২,৭০০টি স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে অথবা তাদের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের বোর্দো অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করতে পারে।
স্পেনেও পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দেশটির বাস্ক অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর সম্ভাবনায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, স্পেনের বহু এলাকায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৫ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রয়েছে, কোথাও কোথাও এই ব্যবধান ১০ ডিগ্রিরও বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৪.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি, যা অন্যান্য মহাদেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
এদিকে ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে তাপপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে ব্রিটেনেও। দেশটির আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছতে পারে। এমনটা হলে ভেঙে যেতে পারে জুন মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড। বর্তমানে জুন মাসে ব্রিটেনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ৩৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ১৯৫৭ ও ১৯৭৬ সালে নথিভুক্ত হয়েছিল।
শুধু মানুষ নয়, এই তীব্র গরমের প্রভাব পড়ছে প্রাণীকুলের ওপরও। বেলজিয়ামের বিভিন্ন প্রাণী উদ্ধারকেন্দ্রে গরমে অসুস্থ হয়ে পড়া পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্রিটেনের হাসপাতাল, স্কুল এবং রেল পরিষেবাগুলিকে চরম তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা যে ক্রমশ বাড়ছে, ইউরোপের এই তাপপ্রবাহ তারই আরেকটি স্পষ্ট উদাহরণ বলে মনে করছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।