পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরার আশায় তাকিয়ে ছিল গোটা বিশ্ব। কিন্তু সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রথম দফা শেষ হলেও এখনও মিলল না কোনও নির্দিষ্ট সমাধান। হরমুজ প্রণালী এবং লেবানন পরিস্থিতি ঘিরে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য বহাল থাকায় শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU)-এর পর অনেকেই মনে করেছিলেন, দীর্ঘ উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিম এশিয়া স্বাভাবিক পরিস্থিতির দিকে এগোবে। কিন্তু বাস্তবে সেই আশা এখনও পূরণ হয়নি। লেবাননের পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ইরান পুনরায় হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানায়। যদিও নতুন যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হয়েছে, তবুও সংঘর্ষ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ তেহরানের।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, ইরান যদি লেবাননে তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলিকে নিয়ন্ত্রণে না আনে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। তাঁর এই মন্তব্যের জেরেই বৈঠকের পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
রবিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধিদল এবং ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় ছিল কাতার ও পাকিস্তান। সূত্রের খবর, ট্রাম্পের হুমকির পর ইরানি প্রতিনিধিরা মূল বৈঠককক্ষে ফিরে যেতে অনীহা প্রকাশ করলেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।
তবে মার্কিন কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, ইরান বৈঠক বয়কট করেনি। বরং গভীর রাত পর্যন্ত আলোচনা চলেছে। হরমুজ প্রণালী, লেবানন পরিস্থিতি, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ভবিষ্যৎ চুক্তির কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
চুক্তির খসড়া অনুযায়ী হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধের বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য গড়ে উঠলেও লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে তেহরান।
তবে সব জটিলতার মধ্যেও আশার আলো দেখছেন কূটনৈতিক মহল। কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহ কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা চলবে এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির কাঠামো তৈরির লক্ষ্যেই এগোচ্ছে দুই দেশ।
এখন নজর থাকবে, হরমুজ ও লেবানন প্রশ্নে দুই পক্ষ কতটা নমনীয় অবস্থান নেয় এবং আদৌ স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে কোনও বাস্তব অগ্রগতি সম্ভব হয় কি না।