পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে তথাকথিত ‘ভালো তৃণমূল’-এর উত্থান। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ছাড়াই দলের একাংশের বৈঠক, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের পরিচিত নেতাদের নতুন মঞ্চে একত্রিত হওয়া—সব মিলিয়ে রাজনৈতিক মহলে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই ঘটনা নিছক দলীয় মতভেদ নয়, বরং ভবিষ্যতের বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিতও হতে পারে। কারণ, যে দল দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে, সেই দলের একটি অংশের কর্মকাণ্ডে তাঁর অনুপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি করছে।
মমতার ছবি নেই, বার্তা কী?
নিউটাউনের একটি হোটেলে আয়োজিত বৈঠকে জোড়াফুল প্রতীক ও দলীয় আদর্শের কথা বলা হলেও কোথাও দেখা যায়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। এমনকি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিও ছিল না।
এতেই প্রশ্ন উঠছে—এ কি শুধুই সাংগঠনিক পুনর্গঠন, নাকি দলের ভিতরে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা?
পুরনো নেতাদের নতুন অবস্থান
এই নতুন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের একাধিক পরিচিত মুখ। যাঁদের অনেকেই অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন। ফলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে।
কিছুদিন আগেও যাঁরা মূল নেতৃত্বের পাশে থাকার কথা বলেছিলেন, তাঁদের অনেককেই এখন নতুন মঞ্চে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। ফলে দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ধন্দ।
নীরব মমতা, বাড়ছে জল্পনা
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই গোটা ঘটনাক্রমে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও কড়া প্রতিক্রিয়া দেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নীরবতা থেকেই নতুন প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। দলীয় বিদ্রোহ হলে সাধারণত দ্রুত সাংগঠনিক পদক্ষেপ দেখা যায়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সেই ধরনের কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ এখনও সামনে আসেনি।
কৌশল নাকি বাস্তব বিভাজন?
একাংশের মতে, তৃণমূলের ভিতরে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে এবং নেতৃত্বের প্রশ্নে মতভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। অন্যদিকে আরেক অংশের ধারণা, ভোটের আগে বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
তবে এই মুহূর্তে কোনও পক্ষই প্রকাশ্যে এমন কোনও দাবি করেনি। ফলে জল্পনা থাকলেও বাস্তব রাজনৈতিক চিত্র স্পষ্ট হতে এখনও সময় লাগবে।
আগামী দিনের দিকে নজর
একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি, সংগঠনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক কার্যকলাপই বলে দেবে এই তথাকথিত ‘মমতাহীন তৃণমূল’ সাময়িক ঘটনা, নাকি বাংলার রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
রাজনৈতিক মহলের মতে, আপাতত প্রশ্ন একটাই—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়া ছাড়া কি আদৌ তৃণমূলের কোনও নতুন রাজনৈতিক সত্তা গড়ে উঠতে পারে, নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও গভীর কোনও কৌশল?