পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে শুরু হল ক্ষমতার লড়াই। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব এবার প্রকাশ্যে বিস্ফোরণের রূপ নিল। একসময় দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবার নিজেকে ‘আসল তৃণমূল’-এর অন্যতম মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিলেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন শিবির সোমবার দলীয় বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু অভিষেকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নয়, বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও সরাসরি চ্যালেঞ্জ। কারণ এতদিন কালীঘাট-কেন্দ্রিক তৃণমূলের দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রভাবশালী মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন অভিষেক। সেই নেতাকেই সরিয়ে দিয়ে নতুন ক্ষমতার সমীকরণ তৈরি করার বার্তা দিয়েছে ঋতব্রত শিবির।
পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলে ভাঙনের ইঙ্গিত স্পষ্ট ছিল। একের পর এক বিধায়ক, সাংসদ ও জনপ্রতিনিধি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে ঋতব্রতদের সঙ্গে যোগ দেন। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যেই ৬৪ জনেরও বেশি বিধায়ক নতুন শিবিরের পাশে দাঁড়িয়েছেন। লোকসভাতেও দলের বড় অংশ অন্য রাজনৈতিক সমীকরণে যুক্ত হয়েছে।
সোমবার নিউটাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে আয়োজিত বিশেষ অধিবেশনে নতুন সাংগঠনিক কাঠামো ঘোষণা করা হয়। সেখানে অরূপ রায়কে ‘আসল তৃণমূল’-এর চেয়ারপার্সন করা হয়। ভাইস চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস এবং রথীন ঘোষ। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা এবং সাবিনা ইয়াসমিনকে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আর সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে রাখা হয়নি। তাঁকে শুধুমাত্র ‘পরামর্শদাতা’ হিসেবে রাখার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। একইসঙ্গে দলীয় প্রস্তাব পাস করিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মাসখানেক আগেও যাঁকে বহিষ্কার করেছিল তৃণমূল, সেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই এখন দলের একাংশ নতুন ক্ষমতার কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে তৈরি হয়েছে এক নতুন সমীকরণ। আগামী দিনে এই সংঘাত আদালত, নির্বাচন কমিশন নাকি জনসমর্থনের ময়দানে গড়াবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।