স্কুল ইউনিফর্মের গুণমান নিশ্চিত করা এবং অতীতে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে রাজ্যের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলিতে বিস্তারিত সমীক্ষার নির্দেশ দিল রাজ্য স্কুলশিক্ষা দপ্তর। ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট ফরম্যাট-সহ একটি নির্দেশিকা জেলায় জেলায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল পরিদর্শকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি বিদ্যালয়কে তাদের ইউনিফর্ম তৈরিতে ব্যবহৃত কাপড়ের ধরন, গুণমান, রং এবং ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা পোশাকের বিবরণ জমা দিতে হবে। ছেলেদের শার্ট ও প্যান্ট এবং মেয়েদের জামা, ওড়না, স্কার্ট বা প্যান্ট—সব কিছুর পৃথক তথ্য চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিটি স্কুলে ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য মোট কত সংখ্যক ইউনিফর্ম প্রয়োজন, তাও উল্লেখ করতে হবে।
শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, বিদ্যালয়গুলির পাঠানো তথ্য প্রথমে সংশ্লিষ্ট স্কুল পরিদর্শকের দপ্তর যাচাই করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত তথ্যও সংগ্রহ করা হবে। পরে জেলার সমস্ত তথ্য একত্রিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আকারে স্কুলশিক্ষা দপ্তরে পাঠানো হবে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, ২০২২ সালের আগে যে ধরনের ইউনিফর্ম, কাপড় এবং নকশা ব্যবহার করা হতো, সেই তথ্যও সমীক্ষার আওতায় বিবেচনা করতে হবে। শিক্ষা দপ্তরের মতে, এই তথ্য ভবিষ্যতের মান নির্ধারণ এবং তুলনামূলক মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
সূত্রের খবর, এই সমীক্ষার ভিত্তিতেই রাজ্যের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বস্ত্রশিল্প দপ্তরের মাধ্যমে স্কুল ইউনিফর্মের কাপড় উৎপাদন ও নির্ধারিত সময়ে সরবরাহের পরিকল্পনা তৈরি করা হবে।
উল্লেখ্য, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছিলেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে স্কুল ইউনিফর্ম তৈরিতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। অভিযোগ ছিল, সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী নির্দিষ্ট মানের ফেব্রিক ব্যবহার না করেও সরকারি কোষাগার থেকে সম্পূর্ণ ব্যয় দেখানো হয়েছে। বিশেষ করে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে এই ধরনের অভিযোগ বেশি সামনে এসেছে বলে শিক্ষা দপ্তর সূত্রে দাবি। সেই কারণেই নতুন নির্দেশিকায় ২০২২ সালের আগের ইউনিফর্মের মান ও বৈশিষ্ট্যও পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষা মহলের একাংশের মতে, এই সমীক্ষার মাধ্যমে ইউনিফর্মের গুণগত মান বজায় রাখা, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে অনিয়ম রোধে একটি কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।