পরিবেশ দূষণ রোধ, পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধি এবং সবুজায়নের বার্তা আরও জোরদার করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দপ্তরের উদ্যোগে চালু হল ‘স্বচ্ছ কবচ’ কর্মসূচি। পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রথম পর্যায়ে রাজ্যের প্রায় ৫০ হাজার সাফাই কর্মীর হাতে বিশেষ সুরক্ষা কিট তুলে দেওয়া হচ্ছে।
এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা এখন সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। শহরাঞ্চলে লাগাতার বৃক্ষনিধন, কংক্রিটের বিস্তার এবং দূষণের কারণে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বড় সংকটের মুখে পড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, অতীতে পরিবেশ দপ্তরের দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানেন, নিয়ন্ত্রণহীন নগরায়ণ এবং দূষণের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভোগা মানুষের ওপর। বিশেষ করে শীতকালে কলকাতাসহ বিভিন্ন শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
তিনি বলেন, শুধু ফ্লাইওভার, সেতু কিংবা আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণই উন্নয়নের একমাত্র সূচক হতে পারে না। পরিচ্ছন্ন শহর, বিশুদ্ধ পানীয় জল, পর্যাপ্ত সবুজায়ন এবং পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনাই আগামী দিনের টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি হওয়া উচিত।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’-এরও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি সম্প্রতি উদ্বোধন হওয়া ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’-এর মাধ্যমে নাগরিক পরিষেবাকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। নগরোন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগকে আরও গতিশীল করতে নবান্ন থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।
সবুজায়নকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে রাজ্য সরকার এ বছর ৭ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে বলেও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, শুধু গাছ লাগিয়ে ছবি তোলাই উদ্দেশ্য নয়; আগামী দুই বছর ধরে প্রতিটি গাছের রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।
আগামী ১৪ থেকে ২০ জুলাই রাজ্যজুড়ে অরণ্য সপ্তাহ পালন করা হবে বলেও জানান তিনি। পরিবেশ রক্ষার এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষ, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।