পশ্চিমবঙ্গে উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। জাপানের শিল্পগোষ্ঠী মিৎসুবিশি রাজ্যে একটি সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নবান্নে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংস্থার প্রতিনিধিদলের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে।
সূত্রের খবর, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত এবং অর্থসচিব প্রভাত মিশ্র। প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দুর্গাপুর ও পানাগড় এলাকায় জমির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় জানান, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে মিৎসুবিশির প্রতিনিধিদল সম্ভাব্য জমি পরিদর্শনে আসবে। সেই পরিদর্শনের পর প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। যদিও সম্ভাব্য বিনিয়োগের অঙ্ক বা জমির পরিমাণ সম্পর্কে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিন কলকাতার তাজ বেঙ্গল-এ মার্চেন্টস চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (MCCI)-র অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী বলেন, পূর্ব ভারতে পশ্চিমবঙ্গকে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিনিয়োগের গন্তব্যে পরিণত করাই নতুন রাজ্য সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি জানান, ঐতিহ্যবাহী পাট ও চা শিল্পের আধুনিকীকরণের পাশাপাশি আগামী দিনে সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডেটা সেন্টার এবং গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (GCC)-এর মতো উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
শিল্পমন্ত্রী আরও জানান, খুব শীঘ্রই রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করা হবে। বিনিয়োগ টানতে অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক প্রণোদনা, আরও শক্তিশালী সিঙ্গল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থা, শিল্প করিডর ও শিল্প ক্লাস্টারের উন্নয়ন এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকার অগ্রাধিকার দেবে।
রাজ্যে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের প্রসারে AI-ভিত্তিক স্টার্ট-আপ, ডেটা সেন্টার ও গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে ভবিষ্যতে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান শিল্পমন্ত্রী।
ব্যবসায়ী মহলকে আশ্বস্ত করে তাপস রায় বলেন, শিল্প ও ব্যবসাকে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজ থেকে সুরক্ষা দেওয়া হবে। সরকারের সঙ্গে শিল্পমহলের সম্পর্ক হবে উন্নয়নের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গকে আবারও দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতেই সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।