জ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একের পর এক তৃণমূল নেতা, জনপ্রতিনিধি ও কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সামনে আসছে। কোথাও দুর্নীতির অভিযোগ, কোথাও বা বেআইনি সম্পত্তি বৃদ্ধির প্রশ্নে জনরোষের মুখে পড়তে হচ্ছে শাসকদল থেকে বিরোধী শিবিরে চলে যাওয়া নেতাদের। এবার সেই তালিকায় নতুন করে নাম জড়াল হুগলির শ্রীরামপুর পুরসভার দাপুটে কাউন্সিলর উত্তম রায়ের।
সম্প্রতি শ্রীরামপুর এলাকায় উত্তম রায়ের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ সম্বলিত পোস্টার ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পোস্টারে দাবি করা হয়েছে, ওই কাউন্সিলরের সাতটি বিয়ে রয়েছে, তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি, হোটেল ও অনুষ্ঠানবাড়ি রয়েছে। পোস্টার প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তম রায় দীর্ঘদিন ধরেই শ্রীরামপুর পুরসভার রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে প্রথমে ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জয়ী হওয়ার পর পরবর্তীতে ৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি ওই ওয়ার্ডের চারবারের কাউন্সিলর।
তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তাঁর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন এলাকার একাংশের বাসিন্দা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয় ও প্রভাবের রাজনীতি চালানো হয়েছে। জোর করে সম্পত্তি দখল, বিরোধীদের উপর চাপ সৃষ্টি এবং প্রভাব খাটানোর মতো একাধিক অভিযোগ তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা। অভিযোগকারীদের দাবি, গত কয়েক বছরে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন ওই কাউন্সিলর। দার্জিলিং ও দীঘায় বিলাসবহুল হোটেল ছাড়াও একাধিক জায়গায় তাঁর বাড়ি ও অনুষ্ঠানবাড়ি রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এই অভিযোগগুলিকে সামনে রেখেই সম্প্রতি শ্রীরামপুর পুরসভার সামনে বিক্ষোভে সামিল হন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। পোস্টার হাতে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে কাউন্সিলরের ছবিতে ডিম ছুড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।
যদিও অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি বা আইনি তদন্তের ফল সামনে আসেনি। শ্রীরামপুর পুরসভার পৌরপ্রধান গিরিধারী সাহা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তাঁর কাছে এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন কাউন্সিলর উত্তম রায়। তাঁর দাবি, তিনি আইন মেনেই সমস্ত কাজ করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার চালানো হচ্ছে। কারও কাছে যদি কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ থাকে, তাহলে আইনগত পথে তা পেশ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, শ্রীরামপুরে এই পোস্টার-কাণ্ড ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং জনরোষের আবহে আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।