বাড়ির মিউটেশনে ‘বাড়তি টাকা’! বিধাননগর পুরসভার সিদ্ধান্ত ঘিরে হাইকোর্টের কড়া প্রশ্ন
বাড়ির মিউটেশনের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্কে বিধাননগর পুরসভা। এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেন বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী। মিউটেশনের সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কোনও সরকারি অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে কীভাবে এই টাকা তোলা হয়েছে, সেই প্রশ্নই তুলেছে আদালত।
মামলাকারীর আইনজীবীর দাবি, ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে তৎকালীন মেয়র সব্যসাচী দত্তের নেতৃত্বাধীন বিধাননগর পুরসভার বোর্ড বৈঠকে আর্থিক সংকটের যুক্তিতে মিউটেশনের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই নাগরিকদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফি-র বাইরে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়েছে।
সরকার অনুমোদন দেয়নি, তাহলে টাকা উঠল কীভাবে?
শুনানিতে বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী জানান, আগের রাজ্য সরকার যেমন লিখিতভাবে জানিয়েছিল যে মিউটেশনের সঙ্গে এমন কোনও অতিরিক্ত লেভি আদায়ের অনুমোদন দেওয়া হয়নি, বর্তমান সরকারও আদালতে একই অবস্থান জানিয়েছে।
এরপরই বিচারপতির প্রশ্ন, "যদি সরকারের অনুমোদন না থাকে, তাহলে এত বছর ধরে যে টাকা তোলা হয়েছে তার হিসেব কোথায়?"
আদালত রাজ্য সরকার এবং বিধাননগর পুরসভাকে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় দিয়ে মিউটেশনের নামে আদায়কৃত সমস্ত অর্থের নথি ও হিসেব আদালতে পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে।
৩০০ টাকার বদলে দাবি প্রায় ২ লক্ষ!
মামলাকারীদের আইনজীবী অরিন্দম দাস আদালতে অভিযোগ করেন, সল্টলেক সেক্টর ফাইভের একটি বহুতলে একটি ফ্ল্যাটের মিউটেশন ফি মূল্যায়ন অনুযায়ী প্রায় ৩০০ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও, মিউটেশন সম্পন্ন করার জন্য প্রায় ২ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছে।
এই অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেই হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রাজ্যের অন্যান্য পুরসভাকেও ঘিরে প্রশ্ন
মামলাকারী পক্ষের অভিযোগ, শুধু বিধাননগর নয়, কলকাতা পুরসভা বাদে রাজ্যের একাধিক পুরসভায় বাড়ি, ফ্ল্যাট বা নির্মাণের মিউটেশনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি-র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। আদালতের এই মামলার রায় ভবিষ্যতে অন্যান্য পুরসভার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে আইন মহল।
এখন নজর আগামী শুনানির দিকে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্য সরকার ও বিধাননগর পুরসভা কী তথ্য ও নথি পেশ করে, তার উপরই নির্ভর করবে মামলার পরবর্তী অগ্রগতি।