পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় শাসক ও বিরোধীদের রাজনৈতিক সংঘাত নতুন নয়। তবে এবার নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের বিতর্কিত ও উস্কানিমূলক মন্তব্য ঘিরে বিধানসভায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সদনে স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর মুখ্যমন্ত্রী নন। আপনাকে বেপরোয়া কথা বলতে দেব না, দেব না, দেব না।"
বিধানসভার প্রথমার্ধে পয়েন্ট অফ অর্ডার-এর মাধ্যমে বিধায়ক পুনা ভাংরা, উৎপল মহারাজ-সহ একাধিক সদস্য হুমায়ুন কবিরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। এরপর পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের সঙ্গে আলোচনা এবং অধ্যক্ষের অনুমতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বিবৃতি দেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই রেজিনগর ও শক্তিপুর থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১৫২, ১৯২, ১৯৬ ও ৩৫৩-সহ একাধিক ধারায় দুটি FIR দায়ের হয়েছে।
দুটি সভার বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক
মুখ্যমন্ত্রী সদনে জানান, ২৬ জুন রেজিনগরের কাশীপুরে একটি রাজনৈতিক সভায় হুমায়ুন কবির প্রকাশ্যে হুমকির সুরে বলেন, তিনি মুসলিম সমাজকে নিয়ে মাঠে নামলে বিরোধীদের পতাকা বহন করার মতো কেউ থাকবে না। একই সঙ্গে তিনি বহরমপুর সেন্ট্রাল জেলের ধারণক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করে লাখো মানুষের আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন।
অন্যদিকে, শক্তিপুরের দুয়ারাঘাটে আরেকটি সভায় নিজের ভাইপোকে গ্রেফতারের ঘটনায় স্থানীয় থানার ওসিকে প্রকাশ্যে হুমকি, অপমানজনক মন্তব্য এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলার কথাও মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
'দুর্বল সরকার নয়, আইনের সরকার'
সদনে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
"আপনি দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে যা খুশি করেছেন, যা খুশি বলেছেন। এবার আর সেটা চলবে না। আমরা ইতিমধ্যেই দুটো FIR করেছি।"
তিনি আরও দাবি করেন, হুমায়ুন কবিরের এই বক্তব্যের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, রেজিনগরের আসন্ন উপনির্বাচনকে সামনে রেখে সংখ্যালঘু ভোট একত্রিত করার উদ্দেশ্যেই বিভাজনমূলক রাজনীতি করা হচ্ছে।
মুর্শিদাবাদ সফরের ঘোষণা
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী সপ্তাহেই তিনি মুর্শিদাবাদ সফরে যাচ্ছেন। সেখানে গিয়ে তিনি আইন ও সংবিধানের শাসনের বার্তা তুলে ধরবেন বলেও ঘোষণা করেন।
তাঁর কথায়,
"ভারতবর্ষে আইন ও সংবিধানই শেষ কথা বলে। গুন্ডাদের শাসন নয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য।"
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থানের পর মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা স্পষ্ট বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।