পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code বা UCC) কার্যকর করার লক্ষ্যে ধাপে ধাপে এগোতে শুরু করেছে নতুন সরকার। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ছিল ইউসিসি চালু করা। ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকেই এবার প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
তবে নবান্ন সূত্রে খবর, এখনই বিধানসভায় ইউসিসি সংক্রান্ত কোনও বিল আনা হচ্ছে না। বিষয়টির সামাজিক, আইনি ও সাংবিধানিক দিকগুলি বিশদভাবে পর্যালোচনা করতে প্রথমেই একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হবে। সেই কমিটির সুপারিশ ও রিপোর্টের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে চূড়ান্ত বিল তৈরি করে বিধানসভায় পেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অসম মডেলেই এগোচ্ছে বাংলা
আইন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলার অভিন্ন দেওয়ানি বিধির খসড়া তৈরিতে অসম মডেলকে ভিত্তি করা হচ্ছে। উত্তরাখণ্ড, গুজরাত এবং অসমে যে আইনি কাঠামো অনুসরণ করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গেও মূলত সেই মডেল অনুসরণ করেই আইন প্রণয়নের প্রস্তুতি চলছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলার সামাজিক ও ধর্মীয় বৈচিত্র্যের কথা মাথায় রেখে সরকার কোনও তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না। আইনি ও প্রশাসনিকভাবে সবদিক খতিয়ে দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা
এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন,
"ইউনিফর্ম সিভিল কোড বাংলায় হবেই। এর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে। উত্তরাখণ্ড, গুজরাত, অসমে যে পদ্ধতিতে হয়েছে, এখানেও সেই পদ্ধতিতেই হবে।"
তাঁর বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার, অন্যান্য বিজেপি-শাসিত রাজ্যের অভিজ্ঞতাকেই অনুসরণ করতে চাইছে রাজ্য সরকার।
অসম মডেলে কী কী রয়েছে?
অসমে ইতিমধ্যেই কার্যকর হওয়া অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিধান রয়েছে।
সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের জন্য একটিই পারিবারিক আইন।
বহুবিবাহ সম্পূর্ণ বেআইনি।
একাধিক বিয়ে করলে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান।
বিয়ে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন করতে হবে।
লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রেও রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক।
লিভ-ইন সম্পর্ক থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানকে বৈধ উত্তরাধিকারীর স্বীকৃতি।
ছেলে ও মেয়ের সম্পত্তিতে সমান অধিকার।
বিয়ের ন্যূনতম বয়স—পুরুষের ২১ বছর এবং নারীর ১৮ বছর।
বাংলায় কী হতে পারে?
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, বাংলায় প্রস্তাবিত আইনে মহিলাদের সমান অধিকার, সম্পত্তিতে সমতা, বিবাহের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন এবং পারিবারিক আইনে অভিন্ন নীতি প্রাধান্য পেতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশের উপর।
সরকারি সূত্রে ইঙ্গিত, সামাজিক সংবেদনশীলতা বিবেচনায় নিয়ে আইনটি এমনভাবে তৈরি করা হবে যাতে সাংবিধানিক কাঠামো বজায় থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় বিতর্কেরও অবকাশ না থাকে।
এখন নজর বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের দিকে। সেই রিপোর্টের পরই স্পষ্ট হবে, বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধির চূড়ান্ত রূপরেখা ঠিক কেমন হতে চলেছে।