কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ অনুসরণ করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাশ হয়ে গেল 'দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (আদার দ্যান শিডিউলড কাস্টস অ্যান্ড শিডিউলড ট্রাইবস্) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬'। প্রায় এক ঘণ্টার বিস্তারিত আলোচনা, শাসক-বিরোধীদের তর্ক-বিতর্ক এবং ভোটাভুটির পর বিলটির পক্ষে ১৮৪টি ভোট পড়ে, বিপক্ষে ভোট পড়ে ১৭টি।
অধিবেশনের শুরুতেই অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ বিলটি (বিল নম্বর ১১) বিবেচনার জন্য উত্থাপন করেন। আলোচনায় মোট ছয়জন বিধায়ক অংশ নেন।
হাই কোর্টের নির্দেশ মেনেই সংশোধনী: সরকারের দাবি
সরকারি পক্ষের বক্তব্য, কলকাতা হাই কোর্টের সাম্প্রতিক রায় কার্যকর করতেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে। শাসকদলের বিধায়ক অরিজিৎ বক্সী বলেন, ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা ছাড়াই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে একাধিক সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, এই সংশোধনী সেই "আইনি ও প্রশাসনিক অসঙ্গতি" দূর করার পদক্ষেপ।
মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষও স্পষ্ট জানান, পূর্বতন সরকারের আমলে অন্তর্ভুক্ত ১১৩টি জাতিকে ওবিসি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে, তবে ১৯৯৩ সালের আইনে অন্তর্ভুক্ত ৬৬টি জাতি আগের মতোই সংরক্ষণের আওতায় থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কোনও সম্প্রদায়কে সামাজিক ও শিক্ষাগতভাবে অনগ্রসর হিসেবে কমিশন সুপারিশ করলে সরকার আইন মেনে তাদের তালিকাভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করবে।
বিরোধীদের আপত্তি
বিলটির বিরোধিতা করে বিরোধী বিধায়করা অভিযোগ করেন, সংশোধনীর মাধ্যমে ওবিসি তালিকা নির্ধারণের ক্ষমতা আইনসভার পরিবর্তে সরকারের হাতে কেন্দ্রীভূত করা হচ্ছে।
বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস বিলটি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দিলেও লিখিত সংশোধনী জমা না দেওয়ায় তা গ্রহণ করা হয়নি।
অন্যদিকে নওশাদ সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য বা এম্পিরিক্যাল ডেটা ছাড়াই সংরক্ষণের কাঠামোয় পরিবর্তন করা সংবিধানের মূল ভাবনার পরিপন্থী।
বিধায়ক বাবর আলি সাচার কমিটির রিপোর্টের উল্লেখ করে বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া মুসলিম সম্প্রদায়ের বাস্তব সমস্যা অস্বীকার করা যায় না। একই সঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমান ওবিসি তালিকা প্রণয়নে অতীতের অস্বচ্ছতার সমালোচনা করলেও, ইতিমধ্যেই চাকরিতে থাকা বা সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়া ব্যক্তিদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার দাবি জানান।
ভোটাভুটিতে সহজেই পাশ বিল
দীর্ঘ আলোচনার শেষে ভোটাভুটিতে বিলটি ১৮৪ ভোটে পাশ হয়।
বিপক্ষে ভোট পড়ে মোট ১৭টি। এর মধ্যে ছিল কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের ১২ জন, কংগ্রেসের ২ জন, আইএসএফ ও সিপিএমের প্রতিনিধি এবং ঋতব্রত-ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বিধায়ক।
এর ফলে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে নতুন ওবিসি সংশোধনী বিল আইনি স্বীকৃতি পেল। এখন এই সংশোধনের ফলে ভবিষ্যতে ওবিসি তালিকা প্রণয়ন এবং সংরক্ষণ নীতিতে কী পরিবর্তন আসে, সেদিকেই নজর থাকবে।