ডবল ইঞ্জিনের গতিতেই প্রথম তিনে উঠবে বাংলা, প্রধানমন্ত্রীর এক যুগ (১২ বছর) পূর্তিতে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর
রাজ্য

ডবল ইঞ্জিনের গতিতেই প্রথম তিনে উঠবে বাংলা, প্রধানমন্ত্রীর এক যুগ (১২ বছর) পূর্তিতে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

"ডবল ইঞ্জিন সরকারের গতিতেই পশ্চিমবঙ্গকে দেশের প্রথম সারির তিন রাজ্যের মধ্যে তুলে আনার লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ১২ বছর পূর্তিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বয়ে বাড়ছে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের গতি। আবাসন, স্বাস্থ্য, পানীয় জল ও পরিকাঠামোয় নজিরবিহীন অগ্রগতির আশ্বাস সরকারের।"

শেয়ার
X WhatsApp

প্রধানমন্ত্রীর পদে নরেন্দ্র মোদীর বারো বছর পূর্তি উপলক্ষে নিউটাউনে আয়োজিত এক বিশেষ সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের আগামী দিনের রূপরেখা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তাঁর সম্পূর্ণ বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতেই ছিল রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যক্ষ সুফল এবং তার সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব। বিগত সরকারের আমলে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের যে লাগাতার সংঘাত ও অসহযোগিতার বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটিয়ে দিল্লি ও কলকাতার নিবিড় মেলবন্ধনে বাংলা কীভাবে উন্নয়নের মহাসড়কে দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে, এদিনের মঞ্চ থেকে তারই পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দেন, একটি রাজ্যের সার্বিক উন্নতির জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যে একই রাজনৈতিক দলের সরকার থাকাটা কতটা জরুরি এবং ইতিমধ্যেই তার সুফল বাংলার প্রতিটি প্রান্তের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে শুরু করেছে।
এদিনের এই তাৎপর্যপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রভারী বিনোদ সোনকর, শশী অগ্নিহোত্রী এবং রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-সহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব। ডবল ইঞ্জিন সরকারের মূল লক্ষ্যমাত্রা স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “ডবল ইঞ্জিন সরকার, সমৃদ্ধ ভারত এবং সেই সমৃদ্ধ, ক্ষমতায়িত ভারতের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে, সেই তপস্যাই আমরা করছি। আগামী দিনে ভারতের প্রথম সারির তিনটি রাজ্যের মধ্যে একটি রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গকে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য।” তিনি মনে করিয়ে দেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নের গতির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নকে একই রাস্তায় এবং একই গতিতে সংযুক্ত করাই এই ডবল ইঞ্জিনের প্রধান উদ্দেশ্য। সরকারের এই বিশাল কর্মযজ্ঞে রাজ্য বিজেপির কার্যকর্তারাও যে প্রতিনিয়ত নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা করে চলেছেন, সে কথাও মুখ্যমন্ত্রী এদিন কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
ডবল ইঞ্জিনের সবচেয়ে বড় ও দৃশ্যমান সুবিধা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী এদিন তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় বরাদ্দের বিপুল পরিমাণ বৃদ্ধি এবং বিনা বাধায় তার সদ্ব্যবহারকে। রাজ্যের প্রতি মোদী সরকারের বঞ্চনার যে অভিযোগ দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছিল, তা পরিসংখ্যান দিয়ে নস্যাৎ করে পূর্বতন ইউপিএ সরকারের সঙ্গে বর্তমান এনডিএ সরকারের অনুদানের একটি তুলনামূলক খতিয়ান পেশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইউপিএ সরকারের আমলে বাংলা পেয়েছিল মাত্র ২ লক্ষ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। অথচ মোদী সরকারের আমলে গত দশ বছরে সেই আর্থিক সহায়তার অঙ্ক গিয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ লক্ষ কোটি টাকায়। আবাসন যোজনার ক্ষেত্রেও এই ডবল ইঞ্জিনের প্রভাব যে কতটা যুগান্তকারী, তা পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আগের সরকারের আমলে যেখানে মাত্র ৪,৬৬৬ কোটি টাকা এসেছিল, সেখানে বর্তমান সরকারের আমলে রাজ্যের গরিব মানুষের প্রায় ৪০ লক্ষ বাড়ি নির্মাণের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি সরাসরি বরাদ্দ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি রূপায়ণে পূর্বতন রাজ্য সরকারের চরম অনীহা এবং পরিকাঠামোগত দুর্নীতির কথাও এদিন মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় ছিল। বিশেষত ‘জল জীবন মিশন’ নিয়ে তিনি পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে ২৭ হাজার কোটি টাকা লুটের মারাত্মক অভিযোগ আনেন। সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, “জল জীবন মিশনে ২৭ হাজার কোটি টাকা তো লুট করে নিয়েছেন আগের সরকারের লোকজন। যে কোনও গ্রামে গেলেই মানুষ বলছেন, কল বসেছে কিন্তু জল পড়ে না।” তবে বর্তমানে ডবল ইঞ্জিন সরকারের কড়া নজরদারি ও স্বচ্ছতায় সেই হতাশার চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। গ্রামীণ কর্মসংস্থান বা মনরেগা প্রকল্পে স্বচ্ছতা এনে ইতিপূর্বেই রাজ্যের প্রান্তিক মানুষদের ৭০০ কোটি টাকার বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখানেই থেমে না থেকে, ডবল ইঞ্জিনের সুবিধা কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে ১২৫ দিনের কাজের নিশ্চয়তা দিতে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলেও মুখ্যমন্ত্রী জানান।
ডবল ইঞ্জিনের প্রত্যক্ষ সুবিধা হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রেও একাধিক বাস্তবায়িত পদক্ষেপের কথা উঠে আসে এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে। রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবারকে ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর মতো যুগান্তকারী স্বাস্থ্যবিমার আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে, যা বিগত সরকারের আমলে স্রেফ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে রাজ্যে কার্যকর হয়নি। এর পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী ‘সূর্য ঘর বিনামূল্যে বিদ্যুৎ যোজনা’-র কাজও রাজ্যে পুরোদমে শুরু হয়েছে। পরিশেষে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেন, এই ডবল ইঞ্জিন সরকারের মূল মন্ত্রই হল ‘ভোকাল ফর লোকাল’। অন্য কারও উপর নির্ভরশীলতা নয়, বরং আত্মনির্ভর এবং স্বাবলম্বী বাংলা গড়ে তোলাই তাঁদের একমাত্র পাখির চোখ। কেন্দ্র এবং রাজ্যের এই যৌথ এবং বাধাহীন প্রচেষ্টাতেই যে আগামী দিনে বাংলার আর্থ-সামাজিক কাঠামোর এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন ঘটতে চলেছে, মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের বক্তব্য তারই সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।

KOLOROB Note

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে আমাদের Contact পৃষ্ঠার মাধ্যমে জানান। যাচাই শেষে সংশোধনী প্রকাশ করা হবে।

সম্পর্কিত খবর আরও →
নন্দীগ্রামের মতো গুলি না চালিয়েই আসবে শিল্প’, টাটাকে ফেরানোর পাশাপাশি নয়া জমি নীতির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
রাজ্য

নন্দীগ্রামের মতো গুলি না চালিয়েই আসবে শিল্প’, টাটাকে ফেরানোর পাশাপাশি নয়া জমি নীতির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

দুর্নীতির দায়ে গ্রেফতার আরামবাগ এর প্রাক্তন পৌর প্রধান।
রাজ্য

দুর্নীতির দায়ে গ্রেফতার আরামবাগ এর প্রাক্তন পৌর প্রধান।

সম্মান না পেলে আর তৃণমূলে নয়! ঘোষণা অনুব্রতের।
রাজ্য

সম্মান না পেলে আর তৃণমূলে নয়! ঘোষণা অনুব্রতের।

রাজ্যে মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন ঘোষণা, অর্থে স্বপন দাশগুপ্ত, শিল্পে তাপস রায়
রাজ্য

রাজ্যে মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন ঘোষণা, অর্থে স্বপন দাশগুপ্ত, শিল্পে তাপস রায়