নন্দীগ্রামের মতো গুলি না চালিয়েই আসবে শিল্প’, টাটাকে ফেরানোর পাশাপাশি নয়া জমি নীতির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
রাজ্য

নন্দীগ্রামের মতো গুলি না চালিয়েই আসবে শিল্প’, টাটাকে ফেরানোর পাশাপাশি নয়া জমি নীতির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

"নন্দীগ্রামের মতো গুলি নয়, শিল্পই হবে উন্নয়নের পথ" — রাজ্যে নতুন শিল্প নীতির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর। টাটা গোষ্ঠীকে ফেরানোর বার্তার পাশাপাশি শিল্পের জন্য জমি সংগ্রহে নতুন রূপরেখা প্রকাশ। কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও আত্মনির্ভর পশ্চিমবঙ্গ গড়ার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ সরকারের।

শেয়ার
X WhatsApp

শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে রাজ্যের শিল্প ও কর্মসংস্থানের নয়া রূপরেখা স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে শিল্পের খরা কাটাতে এবার টাটা গোষ্ঠীকে ফিরিয়ে আনার জোরালো বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি পূর্বতন বাম ও তৃণমূল সরকারকে কড়া ভাষায় বিঁধলেন তিনি। জমি অধিগ্রহণ নিয়ে অতীতের রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, "নন্দীগ্রামের মতো গুলি না চালিয়েও যে শিল্প আনা যায়, নতুন সরকার সেটাই প্রমাণ করে দেখাবে।" আগামী দিনে শিল্পায়নের ক্ষেত্রে জমি যে কোনওভাবেই বাধা হয়ে দাঁড়াবে না, এদিন সেই আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
​রাজ্যে শিল্পের প্রসঙ্গ এলেই অবধারিতভাবে উঠে আসে সিঙ্গুর এবং টাটার কথা। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পর্যবেক্ষণ, বিগত সরকারের আমলে সিঙ্গুরে কৃষকদের জমি ফিরিয়ে দেওয়া হলেও সেই জমি এখন সম্পূর্ণ অনুর্বর। মাটির সঙ্গে মিশে রয়েছে পরিত্যক্ত কারখানার রড, কংক্রিট ও সিমেন্ট। তাই মাটির চরিত্র সম্পূর্ণ বদলে যাওয়ায় সেখানে কৃষিকাজ আর সম্ভব নয়। তবে সিঙ্গুরের আক্ষেপ মিটিয়ে রাজ্যে ফের টাটাকে আনার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "টাটাকে রাজ্যে ফিরিয়ে আনব। আগামিদিনে শিল্প গড়তে রাজ্যে জমি বাধা হবে না।" এই প্রসঙ্গে পূর্বতন বাম সরকারকে নিশানা করে তাঁর সংযোজন, বিগত সরকার কেবল জমি অধিগ্রহণই করেছে, কাজের কাজ কিছুই হয়নি। রাজ্যকে শিল্পবান্ধব করে তুলতে নতুন সরকার ১৯৮৪ সালের জমি অধিগ্রহণ আইন মেনেই শিল্পের জন্য জমি কিনবে বলে জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্যে কেউ অযথা জমি ফেলে রেখে শিল্পের পথ অবরুদ্ধ করছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
​বেসরকারি বিনিয়োগের পাশাপাশি রেলভিত্তিক শিল্পের বিপুল সম্ভাবনার কথাও এদিন ফের মনে করিয়ে দেন তিনি। খড়্গপুর ও কাঁচরাপাড়ার মতো জায়গায় থাকা রেলওয়ে ওয়ার্কশপগুলির পরিকাঠামো সম্প্রসারণ করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য ইতিপূর্বেই তিনি রেলমন্ত্রীর কাছে দরবার করেছেন। রাজ্যে শিল্পায়নের সার্বিক দায়িত্ব সামলাতে পাঁচবারের অভিজ্ঞ বিধায়ক তাপস রায়কে শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই দেশ-বিদেশ থেকে বহু বিনিয়োগের প্রস্তাব সরকারের কাছে আসতে শুরু করেছে। সেগুলি প্রাথমিক স্তরে খতিয়ে দেখতে শিল্পসচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের দল গঠন করা হয়েছে। বিগত সরকারের ‘ফটোসেশন’-এর রাজনীতির পথে না হেঁটে, ভারী শিল্পের পাশাপাশি মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পের মেলবন্ধন ঘটিয়ে কর্মসংস্থানের পথ প্রশস্ত করতে চাইছে বর্তমান সরকার।
​বেকারত্ব দূর করে আত্মনির্ভর পশ্চিমবঙ্গ গড়ার লক্ষ্যে নতুন সরকার যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, আগামী রাজ্য বাজেটেই তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাবে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ২২ তারিখ বিধানসভায় পেশ হতে চলা বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "সেই বাজেটে আপনারা স্পষ্ট বুঝতে পারবেন, এই নতুন সরকার কীভাবে সমস্ত অর্থনৈতিক দিক অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে সামলে পশ্চিমবঙ্গকে এক নতুন উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।" সব মিলিয়ে, অতীত ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে কর্মসংস্থানমুখী ও শিল্পবান্ধব এক নতুন বাংলা গড়ার লক্ষ্যেই যে তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর, তা এদিনের ঘোষণায় অত্যন্ত স্পষ্ট।

KOLOROB Note

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে আমাদের Contact পৃষ্ঠার মাধ্যমে জানান। যাচাই শেষে সংশোধনী প্রকাশ করা হবে।

সম্পর্কিত খবর আরও →
ডবল ইঞ্জিনের গতিতেই প্রথম তিনে উঠবে বাংলা, প্রধানমন্ত্রীর এক যুগ (১২ বছর) পূর্তিতে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর
রাজ্য

ডবল ইঞ্জিনের গতিতেই প্রথম তিনে উঠবে বাংলা, প্রধানমন্ত্রীর এক যুগ (১২ বছর) পূর্তিতে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

দুর্নীতির দায়ে গ্রেফতার আরামবাগ এর প্রাক্তন পৌর প্রধান।
রাজ্য

দুর্নীতির দায়ে গ্রেফতার আরামবাগ এর প্রাক্তন পৌর প্রধান।

সম্মান না পেলে আর তৃণমূলে নয়! ঘোষণা অনুব্রতের।
রাজ্য

সম্মান না পেলে আর তৃণমূলে নয়! ঘোষণা অনুব্রতের।

রাজ্যে মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন ঘোষণা, অর্থে স্বপন দাশগুপ্ত, শিল্পে তাপস রায়
রাজ্য

রাজ্যে মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন ঘোষণা, অর্থে স্বপন দাশগুপ্ত, শিল্পে তাপস রায়