আরামবাগ পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান স্বপন নন্দী কে পুলিশ কেরালা থেকে গ্রেফতার করে। ২০১৩ সালে বিগত বামফ্রন্ট সরকারের আরামবাগ পৌরসভার বোর্ড ভেঙ্গে দখল নেয় তৃণমূল। তখন চেয়ারম্যান হয় স্বপন নন্দী ভাইস চেয়ারম্যান ছিল বামফ্রন্টের দীপু সরকার। এরপর ২০১৫ সালে পৌরসভা নির্বাচন হয় তখন তৃণমূল পরিচালিত আরামবাগ পৌরসভা সব ওয়ার্ডগুলোই তৃণমূলের তখন চেয়ারম্যান হয় স্বপন নন্দী আর ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশ চৌধুরী। ২০২০ সালে নির্বাচনের আগেই মহামারী করনা শুরু হয়। যার ফলে কোন নির্বাচন হয়নি। সে ক্ষেত্রে কুড়ি সালের পর আইন মেনে বসানো হয় প্রশাসক সেক্ষেত্রেও স্বপন নন্দী ওই প্রশাসকের পদে বসেন।
তার মধ্যেই ২০১৭ সালে গ্রীন সিটি প্রকল্প শুরু হয় । আরামবাগ পৌরসভার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডেভেলপমেন্টর জন্য এই প্রকল্প রাস্তাঘাটে লাইট, প্রাণী ও জল, আরামবাগ পৌরসভার মধ্যে যে সমস্ত বিদ্যালয় গুলি রয়েছে সেই বিদ্যালয়গুলিতে সোলার প্যানেল সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বিদ্যুৎ বিল কমানোর প্রয়াস ছিল মূল লক্ষ্য। কিন্তু এই প্রকল্পে কোন কাজ না করেই পুরো টাকা আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। কিন্তু যেহেতু যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তৎকালীন পৌরসভার চেয়ারম্যান স্বপন নন্দী তিনি তখন প্রশাসকের চেয়ারে বসে, যার ফলে কোন অভিযোগ আর তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত হয়নি ।
এরপর 2022 সালে পৌর নির্বাচন হয় তখন নতুন চেয়ারম্যান হন তৃণমূলের সমীর ভান্ডারী তিনি পৌরসভার চেয়ারম্যানের পদে বসেন। এই গ্রীন সিটি প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয় নিয়ে দলের ঊর্ধ্বজনক কর্তৃপক্ষকে অর্থাৎ তৎকালীন পুরন অগর উন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহদ কিমের কাছে লিখিতভাবে সমস্ত বিষয়টি জানান সমীর ভান্ডারী এবং এই প্রকল্পে অডিটের জন্য এ জি বেঙ্গল থেকে আধিকারিকরা আসেন অডিট করেন এবং দুর্নীতির বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ্যে আসে। এরপর বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে গেলেও 2026 সালে বিধানসভা নির্বাচনের পর নিজের পিঠ বাঁচাতে বর্তমান আরামবাগ পৌরসভার চেয়ারম্যান স্বপন নন্দীর বিরুদ্ধে এই গ্রীন সিটি প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগ করেন লিখিতভাবে এবং রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কেও জানান।
এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তৎকালীন আরামবাগ পৌরসভার চেয়ারম্যান স্বপন নন্দী , গ্রেপ্তার হন কেরালা থেকে। তবে আরামবাগের বাসিন্দাদের একাধিক প্রশ্ন এই স্বপন নন্দী আরামবাগের সব থেকে বড় দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূলের নেতা যে একসময় ঢালাই মেশিন ভাড়া দিয়ে লেবার খাটিয়ে সামান্য কিছু টাকা উপার্জন করত । মাত্র কয়েক বছর আগে সে তার মেয়ের বিয়েতে ও ছেলের বিয়েতে রাজকীয় আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বিবাহের অনুষ্ঠান করেছেন যা শুধু এই আরামবাগ নয় হয়তো এই হুগলি জেলা ছাড়িয়েও এত বড় অনুষ্ঠান সারা বাংলায় কোথাও কারো অনুষ্ঠানে এত বড় আয়োজন হয়েছে কিনা তা হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ আছে বলে অভিযোগ ওঠে।
কোটি কোটি টাকা খরচা করে এত বড় অনুষ্ঠান কি করে করল কোথা থেকে এলো এই টাকা। এছাড়াও বিলাসবহুল বাড়িও আছে এমনকি একাধিক জায়গায় সম্পত্তিও রয়েছে তাঁর। শুধু আরামবাগ পৌরসভার চেয়ারম্যানই ছিলেন না স্বপন নন্দী তিনি তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাছের ছিলেন বলে জানা যায়। যার ফলে স্বপন নন্দী আরামবাগের ব্লক সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন। এছাড়াও রাজ্যের তৃণমূল সম্পাদকও ছিলেন এমনকি নির্বাচনী স্পেশাল দায়িত্বেও তিনি থাকতেন। দুদিনের মধ্য তাঁকে নিয়ে আসা হবে আরামবাগ শহরে। হুগলী জেলায় এই প্রথম কোনো চেয়ারম্যান গ্রেফতার হলেন দুর্নীতির দায়ে।