বিধানসভায় ধাক্কা, পুরসভার অন্দরে অস্থিরতা— এসবের মধ্যেই এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে সংসদীয় রাজনীতি। রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর দলীয় অন্দরে যে অন্তর্দ্বন্দ্ব ও বিভাজন প্রকাশ্যে এসেছে, তার প্রভাব এবার লোকসভাতেও পড়তে পারে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গঠিত ‘নব তৃণমূল ব্লক’-এ ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যক বিধায়কের যোগদানের দাবি সামনে এসেছে। সেই আবহেই প্রশ্ন উঠছে, এবার কি লোকসভাতেও একই ধরনের রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের ছবি দেখা যাবে?
এই জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর। ৮ জুন রাজধানীতে পৌঁছনোর কথা তাঁর। তার আগেই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সফর শুধুমাত্র সাংগঠনিক বৈঠক বা বিরোধী জোট রাজনীতির জন্য নয়, বরং দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
দলের অন্দরের অসন্তোষের ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহল থেকে পাওয়া যাচ্ছে। বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার প্রকাশ্যে নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এর পাশাপাশি কয়েকজন সাংসদের ক্ষোভ ও অসন্তোষের খবরও রাজনৈতিক মহলে ঘুরছে।
সূত্রের দাবি, সম্প্রতি সাংসদ জগদীশ বসুনিয়ার সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের যোগাযোগকে ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দলের ডাকা বৈঠকে অনুপস্থিত থাকার কারণ জানতে চাওয়া হয় তাঁকে। ব্যক্তিগত কারণ ও পারিবারিক অসুস্থতার কথা জানালেও বিষয়টি নিয়ে দলের অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠেছে বলে সূত্রের খবর।
অন্যদিকে, তৃণমূলের সেলিব্রিটি সাংসদদের অবস্থান নিয়েও শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। দলের সাংগঠনিক কর্মসূচিতে তাঁদের সক্রিয়তা তুলনামূলকভাবে কমে যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, আগামী দিনে তাঁরা কোন অবস্থান নেবেন। বিশেষ করে অভিনেতা-সাংসদ দেব, অভিনেত্রী-সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান এবং অভিনেত্রী-সাংসদ জুন মালিয়ার নাম ঘিরে নানা আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে সায়নী ঘোষের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও জল্পনা অব্যাহত।
তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকাও এখন রাজনৈতিক মহলের নজরে। অতীতে লোকসভায় দলনেতার পদে পরিবর্তনের পর দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে যে পরিবর্তন এসেছিল, তার প্রভাব এখনও পুরোপুরি কাটেনি বলেই মনে করছেন অনেকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েকদিন তৃণমূলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিধানসভা এবং স্থানীয় স্তরের অস্থিরতার পর যদি লোকসভাতেও সাংসদদের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসে, তাহলে তা দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ফলে দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সফর শুধুমাত্র রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং দলীয় ঐক্য বজায় রাখার লড়াই হিসেবেও দেখা হচ্ছে। সেলিব্রিটি সাংসদ থেকে শুরু করে অসন্তুষ্ট সাংসদদের অবস্থান— সবকিছুর উপরই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।