এবার বন্দে ভারতে জুড়বে সৈকত সুন্দরী দীঘা।
দেশের সমস্ত সৈকত নগরীর সঙ্গে বন্দে ভারতের যোগসূত্র তৈরি হলেও দীঘা এখনো পর্যন্ত সেই তালিকার বাইরে। এবার দীঘা কেউ বন্দে ভারত রিল রেল পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত করতে উদ্যোগী হল নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার। নন্দকুমার-দীঘা রেলপথকে ডাবল লাইন করার লক্ষ্য নিয়ে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের জন্য পদক্ষেপ করতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার দীঘা শংকরপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন দীঘাকে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র করে তুলতে এবার বহুমুখী পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো বন্দে ভারত রেল পরিষেবার সঙ্গে সৈকত নগরী দিঘাকে যুক্ত করা। গত ৮ বছর রেল দপ্তর নন্দকুমার থেকে দীঘা পর্যন্ত ডাবল লাইন চালু করার লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের কাছে জমি চাইলেও তা রেল দপ্তরকে হস্তান্তর করতে পারেনি পূর্বতন তৃণমূল সরকার বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। টাকার অভাবে জমি অধিগ্রহণের রাস্তায় হাঁটেনি, পূর্বতন সরকার বলেও দাবি করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি নবান্ন সমাধরে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণ রাজ্য সরকারের সঙ্গে যে বৈঠক করেছেন সেই বৈঠকে ভার্চুয়ালি হাজির ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা প্রশাসন। ওই বৈঠকের নির্যাস হিসেবে হাওড়া-দীঘা বন্দে ভারত পরিষেবা চালুর প্রসঙ্গ ওঠে। নন্দকুমার থেকে দীঘা পর্যন্ত ডবল লাইন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জমি সমস্যার কারণে এই পরিষেবা চালু করায় সমস্যা হয়েছে বলে জানায় দপ্তর। অবশেষে রবিবার দীঘায় বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী দীঘা শংকরপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সহ পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনকে জানিয়ে দেন জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় টাকার অভাব হবে না। অবিলম্বে নন্দকুমার থেকে দীঘা রেলপথের ডবল লাইন তৈরির জন্য জমি অধিগ্রহণের পদক্ষেপ করতে হবে।
শুধু বন্দে ভারত পরিষেবার মাধ্যমে দীঘায় দ্রুত রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করাই নয় দীঘাকে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র তৈরি করতে তাজপুরের অদূরে প্রস্তাবিত দাদনপাত্রবাড়ে যে গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি করা হবে সেই বন্দরকে ভিত্তি করে দীঘার পর্যটনকে নতুনভাবে আকর্ষণীয় করে তোলা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেক্ষেত্রে বিশাখাপত্তনমের আদলে দীঘায় বন্দর কেন্দ্রিক পর্যটন কেন্দ্র যেমন গড়ে উঠবে তেমনি পর্যটকদের আকর্ষণ আরো বাড়াতে এতদিন দীঘায় দশ টাকা করে যে সরকারি সারচার্জ নেওয়া হত তা রবিবার থেকেই প্রত্যাহার করে নিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, "যারা আয়কর ও জিএসটি দেন তাদের কাছে পর্যটনের জন্য হাত পেতে দশ টাকা নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত একেবারেই বাঞ্ছনীয় নয়। তাই পূর্বতন সরকারের এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হলো।" দীঘার জন্য বন্দে ভারতের ডবল লাইন প্রকল্পের কাজ শুরুর পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় রেল যোগাযোগ বাড়াতে বকেয়া প্রকল্পগুলি আটকে আছে সেগুলো দ্রুত শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্য
এবার সৈকত সুন্দরী দিঘাতেও 'বন্দে ভারত'
বন্দে ভারত পরিষেবার মাধ্যমে দীঘায় দ্রুত রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করাই নয় দীঘাকে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র তৈরি করতে তাজপুরের অদূরে প্রস্তাবিত দাদনপাত্রবাড়ে যে গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি করা হবে সেই বন্দরকে ভিত্তি করে দীঘার পর্যটনকে নতুনভাবে আকর্ষণীয় করে তোলা হবে