বিতর্ককে সঙ্গী করেই পথচলা শুরু দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের। 'বিগ্রহ' থেকে 'ধাম' নিয়ে বিতর্কে প্রথম থেকেই নিজের সিদ্ধান্তে অনঢ় ছিলেন বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের বিগ্রহ পুরীর দারুকাঠ দিয়ে তৈরি মমতার এই দাবিকে প্রথম নস্যাৎ করেন ওড়িশার তৎকালীন আইনমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ হরিচন্দন। অন্যদিকে জগন্নাথ মন্দিরে "ধাম" শব্দটি সরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানান পুরীর মহারাজ। তবে পুরীর মহারাজের আবেদনের প্রেক্ষিতে দীঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে ধাম শব্দটি সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে জেলা প্রশাসন বলে সরকারিভাবে জানানো হলেও তা বাস্তবে হয়নি। কারণ সরকারিভাবে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের নাম 'জগন্নাথ ধাম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র' হিসেবে রয়েই যায়। অবশেষে পুরীর সাংসদ সম্বিত পাত্রকে দুধ হিসেবে পাঠিয়ে বর্তমান রাজ্য সরকারের কাছে থাম শব্দটি বাদ দেওয়ার আবেদন জানালেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। সেই আবেদনপত্র পেয়ে বাংলার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারি সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন যে দিঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে দাম শব্দটি বাদ দিয়ে সরকারিভাবে নামকরণ করা হলো 'জগন্নাথ মন্দির সাংস্কৃতিক কেন্দ্র'। এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে এবং মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ডকেও জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
কিন্তু কেন এই 'ধাম' বিতর্ক?
হিন্দু পুরাণ মতে "ধাম" এবং "মন্দির" নিয়ে কিছু প্রকৃতিগত পার্থক্য রয়েছে। "ধাম" শব্দটির অর্থ "বাসস্থান" বা "ঈশ্বরের আসন"। এটি এমন একটি স্থানকে বোঝায় যা কোনও দেবতা বা শ্রদ্ধেয় ব্যক্তির উপস্থিতি বা উপস্থিতির কারণে পবিত্র বলে বিবেচিত হয়। ভারতে চারটি স্থানকে ধাম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। চারটি ধাম হল বদ্রীনাথ, দ্বারকা, পুরী এবং রামেশ্বরম।পক্ষান্তরে "মন্দির" বলতে হিন্দু মন্দিরকে বোঝায় যা এমন একটি উপাসনাস্থল যেখানে দেবতাদের প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং তাদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। এটি একটি ভৌত কাঠামো যেখানে আচার-অনুষ্ঠান, প্রার্থনা এবং অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয়। মন্দিরের ধারণাটি "মামদিরা"-র সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত, যার অর্থ "বাসস্থান"। এমনকি "ধাম" এবং "তীর্থক্ষেত্রের" মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে। হিন্দু ধর্মমত অনুযায়ী, "ধাম" হল সেই স্থান যেখানে ভক্তরা তাদের ভক্তি ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। আর "তীর্থ" হল পবিত্রতা এবং আধ্যাত্মিক পুনর্নবীকরণের উৎসস্থল। এই সার্বিক হিন্দু সনাতনী ধর্মমত পুরাণের ব্যাখ্যাকে সামনে রেখে দিঘার জগন্নাথের অধিষ্ঠান নিয়েও বিতর্ক তুঙ্গে? দিঘার জগন্নাথের ঠিকানা কি ? "ধাম" না "মন্দির" তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উন্মাদনা ছিল যথেষ্ট। অবশেষে এই বিতর্কে ইতি টানল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। "সনাতনী হিন্দু ধর্মের রীতিনীতি পরম্পরা মেনেই ওড়িশা সরকারের আবেদনকে মান্যতা দেওয়া হয়েছে" বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।