হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে আজ ধর্মতলায় মমতার সভা, পথে নামার ডাক তৃণমূলের
শহরে চলতে থাকা হকার উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। সেই আবহেই বুধবার ধর্মতলায় বড়সড় প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিকেল ৩টায় ধর্মতলায় কেশব দাসের মূর্তির সামনে অনুষ্ঠিত হবে এই সভা। কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে নিজেই নেতৃত্ব দেবেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানের ফলে শহরের বহু হকারের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। শুধু রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে নয়, বিষয়টিকে মানবিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেও তুলে ধরতে চাইছে শাসকদল। দলের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাথ ও রাস্তার ধারে ব্যবসা করে বহু পরিবার সংসার চালায়। তাদের হঠাৎ উচ্ছেদ করলে বিপুল সংখ্যক মানুষের রুজিরুটির উপর সরাসরি আঘাত আসবে।
দলের তরফে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হকারদের সঙ্গে আলোচনা না করেই বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। এর ফলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ছোট ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সভা শুধু প্রতিবাদ কর্মসূচি নয়, বরং সংগঠনের শক্তিপ্রদর্শনেরও একটি বড় মঞ্চ হতে পারে। শহরাঞ্চলে হকারদের একটি উল্লেখযোগ্য সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। ফলে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগেও এই ইস্যুতে সরব হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ ছিল, মানুষের বক্তব্য শোনার সুযোগ না দিয়ে এবং আইনি প্রক্রিয়ার যথাযথ অনুসরণ না করেই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, কোনও নির্মাণ বা ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে অনিয়ম থাকলে আইন অনুযায়ী জরিমানা বা সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলেই অভিযোগ তাঁর।
এই পরিস্থিতিতে বুধবারের ধর্মতলা সভা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে জল্পনা। হকারদের জীবিকা রক্ষার দাবিতে তৃণমূলের এই আন্দোলন আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।