দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ জেজু ফোরাম ফর পিস অ্যান্ড প্রসপেরিটি ২০২৬-এ ভারতের প্রাচীন দর্শন ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ বা ‘বিশ্ব এক পরিবার’-এর বার্তা তুলে ধরলেন বিদেশমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের জটিল ও বহুমাত্রিক সংকট মোকাবিলায় কোনও দেশ একা সফল হতে পারে না; প্রয়োজন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, পারস্পরিক আস্থা এবং সম্মিলিত পদক্ষেপ।
চারদিনের মঙ্গোলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া সফরে ভারতের বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, বিশ্ব আজ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে বিশ্বায়ন নতুন সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে বিভাজন ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন চ্যালেঞ্জের জন্ম দিচ্ছে।
জেজু ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, মহামারি, সন্ত্রাসবাদ, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা—এসব বৈশ্বিক সমস্যা কোনও একক দেশের পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
বিদেশমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে আস্থা ও অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি করতে হবে। মানবকল্যাণ ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে ভবিষ্যতের পথনির্দেশক।
এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আলোচনামঞ্চ হিসেবে পরিচিত জেজু ফোরাম ফর পিস অ্যান্ড প্রসপেরিটি-তে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল বিশ্বব্যাপী বিভাজন ও অনিশ্চয়তার মোকাবিলায় সহযোগিতা ও সম্মিলিত পদক্ষেপের গুরুত্ব।
সফরকালে ভারত-দক্ষিণ কোরিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও একাধিক বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। তিনি জানান, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর করার সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জেজু ফোরামে জয়শঙ্করের এই বার্তা ভারতের বহুপাক্ষিক কূটনীতি ও ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর নেতৃত্বদানের প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করেছে।