রাজ্যে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে 'দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল রেজিস্ট্রেশন অফ বার্থস অ্যান্ড ডেথস (অ্যামেন্ডমেন্ট) রুলস, ২০২৬'-এর খসড়ায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, এই সংশোধনের মূল লক্ষ্য হল জাল জন্ম শংসাপত্র তৈরির প্রবণতা রোধ করা এবং নিবন্ধন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জন্ম ও মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি শংসাপত্র ইস্যু, সংশোধন এবং আপিল প্রক্রিয়াকেও আরও নির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ করা হবে, যাতে জালিয়াতির সুযোগ কমে।
সরকারের দাবি কী?
রাজ্য সরকারের বক্তব্য, গত কয়েক বছরে বিভিন্ন জেলায় বিপুল সংখ্যক ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র চিহ্নিত হয়েছে। সরকারের দাবি অনুযায়ী, উত্তর দিনাজপুর, উত্তর ২৪ পরগনা, মালদহ এবং মুর্শিদাবাদ-সহ সীমান্তবর্তী একাধিক জেলায় জাল শংসাপত্রের ঘটনা সামনে এসেছে।
সরকারের অভিযোগ, এই ধরনের জাল নথি অবৈধভাবে নাগরিক পরিচয় তৈরি বা সরকারি সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। এই কারণেই জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কড়া শাস্তির ইঙ্গিত
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর রাজ্যের নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, জাল শংসাপত্র তৈরি বা ব্যবহার— উভয় ক্ষেত্রেই সরকার কঠোর অবস্থান নেবে। তাঁর দাবি, প্রতিটি অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসন ও পুলিশকে অভিযোগ এলে তা দ্রুত নথিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও সরকার জানিয়েছে। সরকারের মতে, কোনও অভিযোগ চাপা না দিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করাই হবে প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব।
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, সংশোধিত নিয়ম কার্যকর হলে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থায় ডিজিটাল নজরদারি বৃদ্ধি পাবে এবং নথি জালিয়াতি রোধে প্রশাসনের হাতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা আসবে।