কাকদ্বীপ-নামখানার ঝক্কি শেষ, ২০২৭-এর আগেই সরাসরি রেলপথে কপিল মুনির আশ্রম! নবান্ন-বৈঠকে মেগা পরিকল্পনা
রাজ্য

কাকদ্বীপ-নামখানার ঝক্কি শেষ, ২০২৭-এর আগেই সরাসরি রেলপথে কপিল মুনির আশ্রম! নবান্ন-বৈঠকে মেগা পরিকল্পনা

কাকদ্বীপ বা নামখানা হয়ে বারবার গাড়ি বদলানো কিংবা নদী পেরিয়ে যাওয়ার দিন এবার ফুরনোর পথে। কারণ, আগামী ২০২৭ সালের কেন্দ্রীয় সাধারণ বাজেট পেশ হওয়ার আগেই সাগরদ্বীপকে সরাসরি দেশের মূল রেল মানচিত্রের সঙ্গে জুড়ে দিতে কোমর বেঁধে নেমেছে কেন্দ্র।

শেয়ার
X WhatsApp

গঙ্গাসাগরগামী পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের জন্য অবশেষে মিলল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এক ঐতিহাসিক সুখবর। এবার হয়তো পাকাপাকিভাবে অবসান ঘটতে চলেছে কপিল মুনির আশ্রমে পৌঁছনোর দীর্ঘদিনের চেনা ঝক্কি ও ক্লান্তিকর যাত্রাপথের। কাকদ্বীপ বা নামখানা হয়ে বারবার গাড়ি বদলানো কিংবা নদী পেরিয়ে যাওয়ার দিন এবার ফুরনোর পথে। কারণ, আগামী ২০২৭ সালের কেন্দ্রীয় সাধারণ বাজেট পেশ হওয়ার আগেই সাগরদ্বীপকে সরাসরি দেশের মূল রেল মানচিত্রের সঙ্গে জুড়ে দিতে কোমর বেঁধে নেমেছে কেন্দ্র। শনিবার নবান্ন সভাগৃহে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই মেগা প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি হয়েছে। সব কিছু ঠিকঠাক চললে, খুব তাড়াতাড়িই এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রেল সংযোগের সুবিধা পেতে চলেছেন সাধারণ মানুষ।
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলায় ক্ষমতার পালাবদলের পর কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক এখন এক সম্পূর্ণ নতুন মাত্রা পেয়েছে। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার অভিযোগ তুলতেন যে, গঙ্গাসাগর নিয়ে রাজ্য সরকারের কোনও দাবি-দাওয়াকেই দিল্লি আমল দিচ্ছে না। সাগরের উপকূলবর্তী এলাকার ভাঙন রোধ থেকে শুরু করে মুড়িগঙ্গা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ— সবেতেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিমাতৃসুলভ আচরণের অভিযোগ তোলা হতো। কিন্তু রাজ্যে 'ডবল ইঞ্জিন' সরকার প্রতিষ্ঠার পর সেই সংঘাত এখন অতীত। বরং কেন্দ্র ও রাজ্যের এই সমন্বয়ধর্মী রসায়নের সবচেয়ে বড় লাভ পেতে চলেছে পুণ্যভূমি গঙ্গাসাগরই।
নবান্ন সূত্রে খবর, কয়েক দিন আগেই গঙ্গাসাগরের ভাঙন সমস্যা নিয়ে কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রকের সঙ্গে নিজে কথা বলেছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এমনকি বহু বিতর্কিত গঙ্গাসাগর ব্রিজ নির্মাণ নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য যাতে যৌথভাবে পরামর্শের ভিত্তিতে কাজ করে, সেই জল্পনাতেও ইতিবাচক সিলমোহর দিয়েছেন তিনি। এই আবহে ব্রিজের পাশাপাশি যদি সরাসরি রেল যোগাযোগের বিষয়টিও সম্পন্ন হয়, তবে তা গঙ্গাসাগরের পর্যটন ও পরিকাঠামো উন্নয়নে সোনায় সোহাগা হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বর্তমানে কলকাতা বা তার আশপাশের এলাকা থেকে সরাসরি গঙ্গাসাগর যাওয়ার কোনও ট্রেন রুট নেই। পুণ্যার্থী কিংবা পর্যটকদের শিয়ালদহ স্টেশন থেকে প্রথমে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার লোকাল ট্রেনে চেপে পৌঁছাতে হয় কাকদ্বীপ অথবা নামখানা স্টেশনে। কিন্তু ভোগান্তির সেখানেই শেষ নয়। স্টেশন থেকে নেমে আবার বাস কিংবা অটো চড়ে যাত্রীদের যেতে হয় লট ৮ নম্বর জেটি ঘাটে। সেখান থেকে ফের ভেসেল কিংবা লঞ্চে করে মুড়িগঙ্গা নদী পার হয়ে অবশেষে পৌঁছানো যায় কচুবেরিয়া ঘাটে। কচুবেরিয়া থেকে আবার বাসে করে পৌঁছাতে হয় মূল মেলা প্রাঙ্গণে। মকর সংক্রান্তির পুণ্যলগ্নে যখন লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল নামে, তখন এই দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর যাত্রাপথের ঝক্কি পোহাতে গিয়ে পুণ্যার্থীদের, বিশেষত বয়স্কদের নাজেহাল দশা হয়।
সাধারণ মানুষের এই চরম ভোগান্তি থেকে স্থায়ী রেহাই দিতেই এবার পুরোপুরি ‘উঠেপড়ে’ লেগেছে রেল মন্ত্রক। রেলের অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের সাধারণ বাজেট পেশের আগেই এই প্রকল্পের কাজ বহুলাংশে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য চূড়ান্ত তৎপরতা শুরু হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে, আগামী দিনে নদী পারাপার কিংবা বারবার গাড়ি বদলানোর ঝামেলা এড়িয়ে, ট্রেনের কামরায় বসেই সরাসরি পৌঁছে যাওয়া যাবে সাগরের মেলা প্রাঙ্গণে।
অনেক দিন পর বাংলায় রেল নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণে এমন বড়সড় আশার আলো দেখা গেল। শনিবার নবান্ন সভাগৃহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যের শীর্ষ আমলা ও পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের এক প্রতিনিধি পর্যায়ের দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ বৈঠক হয়। সেই বৈঠকেই গঙ্গাসাগর রেল প্রকল্পের বিষয়েও আশার আলো দেখা গিয়েছে। নবান্নের তরফে রেলকে সমস্ত রকম প্রশাসনিক ও জমি সংক্রান্ত বিষয়ে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যা এই প্রকল্পের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন রাজ্যের আধিকারিকদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, রেলের প্রকল্পে কোনোভাবেই গড়িমোশি করা চলবে না। দ্রুত জমি চিহ্নিতকরণ থেকে শুরু করে কিভাবে যাতে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য রেলকে সাহায্য করা যায় সেই জন্য হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে রাজ্যকে। আর সেখানে কোনোভাবেই দীর্ঘসূত্রিতা বরদাস্ত নয়-স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

KOLOROB Note

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে আমাদের Contact পৃষ্ঠার মাধ্যমে জানান। যাচাই শেষে সংশোধনী প্রকাশ করা হবে।

সম্পর্কিত খবর আরও →
ডানকুনিতে লাক্স কোজির কারখানার শিলান্যাসে বড় বার্তা শমীকের, এবার কি সিঙ্গুরেও ফিরবে শিল্প?
রাজ্য

ডানকুনিতে লাক্স কোজির কারখানার শিলান্যাসে বড় বার্তা শমীকের, এবার কি সিঙ্গুরেও ফিরবে শিল্প?

রাজ্যে টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস, উত্তরবঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা! কলকাতাসহ একাধিক জেলায় সতর্কতা
রাজ্য

রাজ্যে টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস, উত্তরবঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা! কলকাতাসহ একাধিক জেলায় সতর্কতা

রাজ্য

মুর্শিদাবাদে মিড ডে মিল বিতর্ক: ছাত্রছাত্রীদের খাবার না দিয়ে বাইরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে উত্তেজনা নবদুর্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে

জ্যোতি বসুর ১১৪তম জন্মবার্ষিকী: পরিমিতিবোধ, প্রশাসনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক আভিজাত্যের এক অনন্য অধ্যায়
রাজ্য

জ্যোতি বসুর ১১৪তম জন্মবার্ষিকী: পরিমিতিবোধ, প্রশাসনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক আভিজাত্যের এক অনন্য অধ্যায়