কাটোয়ায় মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিতে কালো কাপড়, চাঞ্চল্য শহরজুড়ে; তদন্তে পুলিশ
পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া শহরে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিতে কালো কাপড় বেঁধে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার সকালে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্টেশন বাজার চৌরাস্তায় অবস্থিত মহাত্মা গান্ধীর পূর্ণাবয়ব মূর্তির মুখ ও হাত কালো কাপড়ে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে কাটোয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাপড় সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করে।
সকালে শ্রমিকদের নজরে আসে ঘটনা
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতো বুধবার সকালেও কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক কাজের উদ্দেশ্যে স্টেশন বাজার চৌরাস্তায় আসেন। সকাল প্রায় ৭টা নাগাদ তাঁদের নজরে আসে, মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির মুখ ও হাত কালো কাপড় দিয়ে বাঁধা রয়েছে। বিষয়টি দেখে তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে কাটোয়া থানায় খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মূর্তি থেকে কাপড় সরিয়ে দেয়।
ক্ষোভে ফেটে পড়লেন স্থানীয়রা
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও পথচারীদের ভিড় জমে যায়। জাতির জনকের মূর্তির সঙ্গে এমন আচরণে তাঁরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
এক নির্মাণ শ্রমিক বলেন,
"মহাত্মা গান্ধী আমাদের দেশের জাতির জনক। তাঁর মূর্তির সঙ্গে এমন অবমাননাকর আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয়। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করুক।"
এক স্থানীয় বাসিন্দার কথায়,
"কাটোয়ার মতো শহরে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। জাতীয় ব্যক্তিত্বদের প্রতি সম্মান বজায় রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব। প্রশাসন দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক।"
১৯৯৮ সাল থেকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিস্তম্ভ
উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের ৫ আগস্ট কাটোয়া পৌরসভার উদ্যোগে স্টেশন বাজার চৌরাস্তায় মহাত্মা গান্ধীর এই মূর্তি স্থাপন করা হয়। প্রতি বছর গান্ধী জয়ন্তী-সহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসে এখানে মাল্যদান ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এটি শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে পরিচিত।
সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মূর্তির আশপাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। কাটোয়া থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার জেরে শহরের বিভিন্ন মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে। সাধারণ মানুষের দাবি, জাতীয় ঐতিহ্য ও মহান ব্যক্তিত্বদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের এমন ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে, তার জন্য প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।