মেখলিগঞ্জ সীমান্তে তুমুল উত্তেজনা! জিরো পয়েন্টে বাংলাদেশিদের ভিড়, অনুপ্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে চাঞ্চল্য
কোচবিহার

মেখলিগঞ্জ সীমান্তে তুমুল উত্তেজনা! জিরো পয়েন্টে বাংলাদেশিদের ভিড়, অনুপ্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে চাঞ্চল্য

কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ সীমান্তে জিরো পয়েন্টে বহু বাংলাদেশি নাগরিকের জমায়েত ঘিরে উত্তেজনা। অনুপ্রবেশের চেষ্টার অভিযোগ, কড়া নজরদারিতে বিএসএফ। সীমান্তে জারি উচ্চ সতর্কতা।

শেয়ার
X WhatsApp

উত্তরবঙ্গের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে শুক্রবার সকালে হঠাৎ করেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সীমান্তের জিরো পয়েন্টে বহু বাংলাদেশি নাগরিকের জমায়েত ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই ব্যক্তিদের একাংশ ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। যদিও বিএসএফের তৎপরতা এবং কড়া নজরদারির জেরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।

কোথায় ঘটেছে ঘটনা?

ঘটনাটি ঘটেছে মেখলিগঞ্জ ব্লকের চ্যাংরাবান্ধা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ১৩৪ নম্বর পানিশালা সীমান্তে। সীমান্তের ঠিক ওপারেই রয়েছে বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের আউলিয়ারহাট এলাকা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুক্রবার সকাল থেকেই সীমান্ত সংলগ্ন জিরো পয়েন্ট এলাকায় বাংলাদেশি নাগরিকদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের জমায়েত দেখা যায়। বিষয়টি নজরে আসতেই বিএসএফ জওয়ানরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কড়া নজরদারি শুরু করেন।

অনুপ্রবেশের চেষ্টার অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জিরো পয়েন্টে জড়ো হওয়া ব্যক্তিদের একাংশ ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও সরকারি স্তরে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

সীমান্তে উপস্থিত নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং কাঁটাতারের বেড়া সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়। ফলে কোনও ধরনের অনুপ্রবেশের চেষ্টা সফল হয়নি বলেই জানা যাচ্ছে।

পাল্টা অভিযোগ বাংলাদেশি নাগরিকদের

এদিকে সীমান্তের ওপারে অবস্থানকারী কিছু বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করেছেন, বিএসএফ নাকি ১০ জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে পাঠানোর বা ‘পুশ-ইন’-এর চেষ্টা করেছে। তাঁদের অভিযোগ, ওই ব্যক্তিদের সীমান্ত অতিক্রম করিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

তবে এই দাবির সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সীমান্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ১০ জন ব্যক্তি বর্তমানে জিরো লাইন সংলগ্ন এলাকাতেই অবস্থান করছেন।

বিএসএফের কড়া বার্তা

ঘটনার পর বিএসএফ সূত্রে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে কোনওরকম আপস করা হবে না। বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা প্রয়োজনীয় নথিপত্র ছাড়া কাউকে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি চালানো হচ্ছে। ঘটনাস্থলে উচ্চপদস্থ বিএসএফ আধিকারিকরাও পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

সীমান্তে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সীমান্তবর্তী এলাকায় উদ্বেগ ছড়ায়। যদিও প্রশাসন এবং বিএসএফ সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার আবেদন জানিয়েছে।

বর্তমানে পানিশালা সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বলয় আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তের বিভিন্ন স্পর্শকাতর পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

নতুন করে উত্তেজনা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে

সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় একাধিকবার উত্তেজনা দেখা গিয়েছে। তার মধ্যেই মেখলিগঞ্জের এই ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

যদিও পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবুও সীমান্তের এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে প্রশাসন, বিএসএফ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের।

(উল্লেখ্য: অনুপ্রবেশ ও পুশ-ইন সংক্রান্ত অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং সরকারি বক্তব্যের অপেক্ষা রয়েছে।)

KOLOROB Note

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে আমাদের Contact পৃষ্ঠার মাধ্যমে জানান। যাচাই শেষে সংশোধনী প্রকাশ করা হবে।

সম্পর্কিত খবর আরও →
মাথাভাঙ্গায় তোলাবাজির অভিযোগে গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ! খাটের তলায় লুকিয়ে উদ্ধার তৃণমূল নেতা তথা সিভিক ভলান্টিয়ার
কোচবিহার

মাথাভাঙ্গায় তোলাবাজির অভিযোগে গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ! খাটের তলায় লুকিয়ে উদ্ধার তৃণমূল নেতা তথা সিভিক ভলান্টিয়ার