আসন্ন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কলকাতা সফরের আগে শহরকে পরিচ্ছন্ন ও ঝকঝকে করে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। সোমবার কলকাতা পুরসভায় ‘স্বচ্ছতাকে স্বাগত’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর উপস্থিতিতে পুরভবনে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন জল্পনারও সূচনা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শাসকদলের একাধিক পরিচিত মুখের উপস্থিতি নজর কাড়লেও সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের অনুপস্থিতি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী তির্যক সুরে বলেন, অনুষ্ঠানে সবাই এলেও বেলেঘাটার বিধায়ককে দেখা যায়নি। কারও অনুপস্থিতিতে সরকারের ক্ষতি হবে না, বরং জনসাধারণের থেকে দূরত্ব তৈরি হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুধু রাজনৈতিক কটাক্ষ নয়, কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক কাঠামো নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা দীর্ঘদিন চলবে না এবং খুব শীঘ্রই পুরসভায় সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে উন্নয়নের স্বার্থে রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ের ওপর জোর দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি চাইলে নবান্নে বৈঠক ডাকতে পারতেন, কিন্তু নিজে পুরসভায় এসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে চেয়েছেন—কলকাতার সার্বিক উন্নয়ন ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক বিকাশ সম্ভব নয়। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে শহর সৌন্দর্যায়ন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং পুরসভার ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য—সব মিলিয়ে এদিন সরগরম ছিল কলকাতার রাজনৈতিক মহল।