নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ প্রশিক্ষিত মহিলা বাহিনী গড়ে তুলতে উদ্যোগী হল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে দুটি বিশেষ মহিলা স্টেট পুলিশ রিজার্ভ ফোর্স (এসপিআরএফ) ব্যাটালিয়ন গঠনের বিস্তারিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রস্তাবিত দুই ব্যাটালিয়নের নাম রাখা হয়েছে ‘মাতঙ্গিনী হাজরা মহিলা এসপিআরএফ ব্যাটালিয়ন’ এবং ‘রানী শিরোমনি মহিলা এসপিআরএফ ব্যাটালিয়ন’। নারী ও শিশু সুরক্ষা, মানবপাচার রোধ এবং সংবেদনশীল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই বিশেষ বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে রাজ্য পুলিশ।
প্রস্তাব অনুযায়ী, রানী শিরোমনি মহিলা এসপিআরএফ ব্যাটালিয়ন গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে ব্যারাকপুর পুলিশ ব্রিগেড এলাকায়। বর্তমানে এসএপি অষ্টম ব্যাটালিয়ন জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার সুতি থানায় স্থানান্তরিত হওয়ায় ব্যারাকপুরে থাকা পরিকাঠামো ব্যবহার করেই নতুন ব্যাটালিয়ন তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, মাতঙ্গিনী হাজরা মহিলা এসপিআরএফ ব্যাটালিয়নের অবস্থান এখনও চূড়ান্ত হয়নি। জমির প্রাপ্যতা এবং প্রশাসনিক প্রয়োজন বিবেচনা করে পরবর্তীতে রাজ্য সরকার সেই স্থান নির্ধারণ করবে।
কী হবে এই বাহিনীর প্রধান কাজ?
প্রস্তাব অনুযায়ী, মহিলা এসপিআরএফ ব্যাটালিয়নগুলির প্রধান দায়িত্বের মধ্যে থাকবে—
নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিশেষ দায়িত্ব পালন
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও দাঙ্গা মোকাবিলা
মানবপাচার প্রতিরোধ এবং শিশু কল্যাণ সংক্রান্ত বিশেষ অভিযান
বড় উৎসব, জনসমাবেশ ও ভিআইপি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সহায়তা
নারী-সংক্রান্ত সংবেদনশীল মামলায় জেলা পুলিশ ও কমিশনারেটকে সহযোগিতা
২,০০৬টি নতুন পদ তৈরির প্রস্তাব
প্রতিটি ব্যাটালিয়নে ১,০০৩টি করে পদ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফলে দুটি ব্যাটালিয়ন মিলিয়ে মোট ২,০০৬টি নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত পদগুলির মধ্যে রয়েছে—
কমান্ড্যান্ট – ২ জন
ডেপুটি কমান্ড্যান্ট – ২ জন
ডিএসপি – ১৪ জন
ইন্সপেক্টর – ৪০ জন
সাব-ইন্সপেক্টর – ৯০ জন
এএসআই ও ওয়্যারলেস অপারেটর – ২৯৮ জন
পুলিশ ড্রাইভার – ১২৮ জন
কনস্টেবল – ১,৩৪০ জন
বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী এই পদগুলি পূরণের অনুমোদনও চাওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের কাছে।
পুলিশের প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এই দুই মহিলা এসপিআরএফ ব্যাটালিয়ন গঠিত হলে নারী ও শিশু সুরক্ষা, বিশেষ অভিযান, মানবপাচার বিরোধী কার্যক্রম এবং জননিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এখন এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য রাজ্য সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষা।