রাজ্যের নতুন সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে বড় পদক্ষেপ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ঘোষিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের পরিবর্তে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হল ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। সরকার গঠনের ঠিক এক মাসের মাথায় বুধবার নবান্ন সভাঘরে এই প্রকল্পের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে পাঁচজন মহিলা উপভোক্তার হাতে ৩ হাজার টাকার চেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। একইসঙ্গে রাজ্যের লক্ষাধিক উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ স্থানান্তরের (Direct Benefit Transfer বা DBT) মাধ্যমে প্রকল্পের অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়।
২৮ লক্ষের বেশি উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রথম পর্যায়ে মোট ২৮ লক্ষ ২৫ হাজার ৭৬৯ জন মহিলা উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৩ হাজার টাকা করে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, পূর্ববর্তী লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত অধিকাংশ উপভোক্তাকেই অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আনার পরিকল্পনা ছিল সরকারের। সেই কারণেই শুরুতে নতুন করে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ভাবা হয়নি।
কেন চালু করা হল ১২ পাতার আবেদনপত্র?
অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য বিশদ তথ্য-সম্বলিত ১২ পাতার আবেদনপত্র চালুর কারণও এদিন ব্যাখ্যা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তাঁর বক্তব্য, ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনার (SIR) পর দেখা যায়, স্থায়ীভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া কিছু ব্যক্তিও পূর্ববর্তী প্রকল্পের সুবিধাভোগী ছিলেন। পাশাপাশি তদন্তে এমন ঘটনাও সামনে এসেছে, যেখানে প্রকল্পের সুবিধাভোগীর তালিকায় কিছু পুরুষের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে দাবি সরকারের।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই সমস্ত অসঙ্গতি সামনে আসার পর প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতে এবং তথ্য যাচাইয়ের স্বার্থে বিশদ তথ্য-সহ আবেদনপত্র চালু করা হয়েছে।”
অন্যান্য প্রকল্পেও একই পদ্ধতির ইঙ্গিত
শুধু অন্নপূর্ণা যোজনাই নয়, ভবিষ্যতে অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পেও একই ধরনের তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি জানান, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প থেকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই এবং নথিপত্র পর্যালোচনার জন্য একই ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করা হতে পারে।
‘সরকারি সুবিধা পাবেন শুধুমাত্র যোগ্য নাগরিকরাই’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, রাজ্যের সরকারি প্রকল্পগুলির সুবিধা শুধুমাত্র যোগ্য ও বৈধ নাগরিকদের কাছেই পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর সরকার।
তাঁর বক্তব্য, “রাজ্য সরকারের কোনও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা এমন কোনও ব্যক্তি পাবেন না, যিনি দেশের বৈধ নাগরিক নন। প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে সরকার
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ক্ষমতায় আসার মাত্র এক মাসের মধ্যেই অন্নপূর্ণা যোজনা চালুর মাধ্যমে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের বার্তা দিতে চাইল বর্তমান সরকার। একইসঙ্গে উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই ও প্রকল্পভিত্তিক ডেটাবেস তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিতও মিলেছে নবান্নের এই কর্মসূচি থেকে।