সীমান্ত সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ রাজ্যের, বিএসএফ ও আইটিবিপি-কে জমি হস্তান্তরে মন্ত্রিসভার সিলমোহর
রাজ্য

সীমান্ত সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ রাজ্যের, বিএসএফ ও আইটিবিপি-কে জমি হস্তান্তরে মন্ত্রিসভার সিলমোহর

শিলিগুড়িতে আইটিবিপি-র জন্য ১০০ একর, নদিয়া ও দক্ষিণ দিনাজপুরে বিএসএফ-এর জন্য আরও ৬ একর জমি; অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রুখতে জোর সীমান্ত পরিকাঠামোয়

শেয়ার
X WhatsApp

আন্তর্জাতিক সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করতে এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইন্দো-টিবেটান বর্ডার পুলিশ (আইটিবিপি) এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর হাতে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

নবান্ন সূত্রে খবর, শিলিগুড়ি অঞ্চলে আইটিবিপি-র জন্য ১০০ একর খাস জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নদিয়া ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় বিএসএফ-এর জন্য আরও ৬ একর জমি হস্তান্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় নতুন অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতেই এই পদক্ষেপ বলে প্রশাসনের দাবি।

সীমান্তে বাড়বে নজরদারি

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তের বিভিন্ন অংশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং নতুন বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) তৈরির কাজ জমির অভাবে আটকে ছিল। জমি হস্তান্তরের এই সিদ্ধান্তের ফলে সেই জট কাটবে বলে মনে করা হচ্ছে।

নতুন আউটপোস্ট তৈরি হলে সীমান্তে টহলদারি বৃদ্ধি পাবে। একইসঙ্গে বেআইনি অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং মানবপাচারের মতো অপরাধমূলক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণেও সুবিধা হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

৬০০ একর জমি হস্তান্তরের লক্ষ্য

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন সরকার গঠনের পর ১১ মে অনুষ্ঠিত প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল। সেই বৈঠকে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে মোট ৬০০ একর জমি তুলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

ইতিমধ্যেই গত ২৮ মে পর্যন্ত বিএসএফ-এর হাতে ১৪২.৭৯ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারের সিদ্ধান্তে সেই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হবে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিমবঙ্গ

ভূ-কৌশলগত দিক থেকে পশ্চিমবঙ্গ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য। বাংলাদেশের সঙ্গে প্রায় ২,২১৬.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত ছাড়াও ভুটান ও নেপালের সঙ্গেও সীমানা ভাগ করে নিয়েছে রাজ্য।

সীমান্তের বহু অংশ নদীবহুল ও দুর্গম হওয়ায় সেখানে নজরদারি চালানো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের। অতীতে জমি সংক্রান্ত জটিলতা, স্থানীয় আপত্তি এবং আইনি সমস্যার কারণে সীমান্ত পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ বারবার বাধার মুখে পড়েছিল।

‘জাতীয় নিরাপত্তায় কোনও আপস নয়’

নবান্নের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। কোথায় কতটা জমি প্রয়োজন তা দ্রুত চিহ্নিত করে প্রশাসনিক জটিলতা দূর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনকে।

স্থানীয় স্তরে কোনও সমস্যা তৈরি হলে আলোচনার মাধ্যমে তার সমাধান করে দ্রুত জমি হস্তান্তর সম্পন্ন করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জমি সংক্রান্ত বাধা দূর হলে বিএসএফ ও আইটিবিপি সীমান্ত এলাকায় আরও বেশি সংখ্যক আউটপোস্ট গড়ে তুলতে পারবে। ফলে আন্তর্জাতিক সীমান্তে নজরদারি যেমন বাড়বে, তেমনই দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।

KOLOROB Note

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে আমাদের Contact পৃষ্ঠার মাধ্যমে জানান। যাচাই শেষে সংশোধনী প্রকাশ করা হবে।

সম্পর্কিত খবর আরও →
নারী ও শিশু সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ, রাজ্যে গড়ে উঠতে পারে দুই মহিলা এসপিআরএফ ব্যাটালিয়ন
রাজ্য

নারী ও শিশু সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ, রাজ্যে গড়ে উঠতে পারে দুই মহিলা এসপিআরএফ ব্যাটালিয়ন

রাজ্য পুলিশকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমকক্ষ করতে রক্ষা একাডেমির সঙ্গে মউ, ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠায় কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
রাজ্য

রাজ্য পুলিশকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমকক্ষ করতে রক্ষা একাডেমির সঙ্গে মউ, ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠায় কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

এক প্রতীকে জিতে অন্য প্রতীকে সংযুক্তি ; বঙ্গ রাজনীতির নয়া ট্র্যাডিশন না বাঙালির অবক্ষয় ?
রাজ্য

এক প্রতীকে জিতে অন্য প্রতীকে সংযুক্তি ; বঙ্গ রাজনীতির নয়া ট্র্যাডিশন না বাঙালির অবক্ষয় ?

পাহাড়ের শেষকথা আবার সেই বিমল! কার্শিয়াংয়ে শুভেন্দুর পাশে একই মঞ্চে গুরুং
রাজ্য

পাহাড়ের শেষকথা আবার সেই বিমল! কার্শিয়াংয়ে শুভেন্দুর পাশে একই মঞ্চে গুরুং