ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলার অন্যতম কৃতী সন্তান ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক ঐতিহাসিক প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কলকাতার বুকে নির্মিত হতে চলেছে তাঁর ১২৫ ফুট উঁচু একটি সুবিশাল মূর্তি, যা বাস্তবায়িত হলে সেটিই হবে দেশের মধ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সর্বোচ্চ মূর্তি।
রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ৫ জুলাই একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। যদিও এখনও চূড়ান্তভাবে স্থান নির্ধারণ করা হয়নি, তবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর জল্পনা, দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরেই গড়ে উঠতে পারে এই বিশাল স্মারক।
জন্মভিটের কাছেই মূর্তি?
ভবানীপুরের নাম সামনে আসার অন্যতম কারণ, এই এলাকাতেই রয়েছে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাসভবন। তাঁর জীবনের নানা স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে এই অঞ্চলের সঙ্গে। ফলে ঐতিহাসিক ও আবেগের দিক থেকে ভবানীপুরকেই সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, পূর্ত দফতর এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের আধিকারিকরা সম্ভাব্য স্থানগুলি নিয়ে সমীক্ষা চালাচ্ছেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে বিশেষ উদ্যোগ
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র মূর্তি নির্মাণই নয়, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে বছরব্যাপী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, শিক্ষামূলক ও স্মারক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে সম্মান জানানো নয়, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর রাজনৈতিক দর্শন, শিক্ষাবিদ হিসেবে অবদান এবং জাতীয় জীবনে তাঁর ভূমিকা তুলে ধরা।
দেশের সর্বোচ্চ শ্যামাপ্রসাদ মূর্তি
বর্তমানে দেশের মধ্যে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সবচেয়ে উঁচু মূর্তি রয়েছে উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে। 'রাষ্ট্র প্রেরণা স্থল'-এ স্থাপিত সেই ব্রোঞ্জের মূর্তির উচ্চতা ৬৫ ফুট।
কলকাতায় প্রস্তাবিত ১২৫ ফুটের মূর্তি বাস্তবায়িত হলে সেটি উচ্চতায় প্রায় দ্বিগুণ হবে এবং দেশের মধ্যে নতুন রেকর্ড গড়বে।
প্রযুক্তিগতভাবেও বড় চ্যালেঞ্জ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১২৫ ফুট উচ্চতার একটি মূর্তি নির্মাণ করা শুধু স্থাপত্যগত নয়, প্রকৌশলগত দিক থেকেও অত্যন্ত জটিল কাজ। প্রায় ১২ তলা ভবনের সমান উচ্চতার এই কাঠামো নির্মাণে বিশেষ প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন হবে।
তবে সফলভাবে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে এটি কলকাতার অন্যতম প্রধান ল্যান্ডমার্কে পরিণত হতে পারে।
পর্যটনেও নতুন আকর্ষণ
পর্যটন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, মূর্তিটি নির্মিত হলে তা শুধু রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক গুরুত্বই বহন করবে না, বরং কলকাতার পর্যটন মানচিত্রেও নতুন সংযোজন হতে পারে।
দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
নজর ৫ জুলাইয়ের দিকে
এখন সকলের নজর আগামী ৫ জুলাইয়ের দিকে। ওই দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে শুরু হতে পারে বহু প্রতীক্ষিত এই প্রকল্পের যাত্রা।
চূড়ান্ত স্থান ঘোষণা, নকশা প্রকাশ এবং নির্মাণের সময়সীমা নিয়ে আগামী দিনে আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ইতিমধ্যেই স্পষ্ট, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কলকাতার বুকে গড়ে উঠতে চলেছে এক নতুন ঐতিহাসিক স্মারক, যা ভবিষ্যতে শহরের পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।