উৎসবের মরসুমে যখন সাধারণ মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন, তখন আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরলস দায়িত্ব পালন করেন পুলিশ ও হোমগার্ড বাহিনীর সদস্যরা। দুর্গাপুজো, কালীপুজো কিংবা অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনেও তাঁদের ডিউটি থেমে থাকে না। সেই অক্লান্ত কর্তব্যপরায়ণতার স্বীকৃতি হিসেবেই এবার বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার।
সোমবার স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের জারি করা এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের উৎসবের মরসুমে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করা পুলিশকর্মী ও হোমগার্ডদের জন্য বিশেষভাবে ১০ দিনের অতিরিক্ত ছুটি মঞ্জুর করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের যেসব কর্মী দুর্গাপুজো এবং অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনে টানা সাত দিনের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁরাই এই বিশেষ সুবিধার আওতায় আসবেন। একইসঙ্গে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের অধীনস্থ হোমগার্ড ভলান্টিয়াররাও এই সুবিধা পাবেন।
নবান্নের নির্দেশিকা অনুযায়ী, মোট ১০ দিনের এই অতিরিক্ত ছুটির মধ্যে ৮ দিন দেওয়া হবে কমপেনসেটরি ক্যাজুয়াল লিভ (সিসিএল) হিসেবে এবং বাকি ২ দিন থাকবে স্পেশাল লিভ হিসেবে। অর্থাৎ উৎসবকালে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য কর্মীরা মোট ১০ দিনের বিশেষ ছুটি ভোগ করার সুযোগ পাবেন।
তবে এই ছুটি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কিছু নির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই অতিরিক্ত ছুটি কোনো দীর্ঘমেয়াদি বা মেজর ক্যাটাগরির ছুটির সঙ্গে যুক্ত করা যাবে না। পাশাপাশি স্থানীয় সরকারি ছুটির সঙ্গে একটানা এই ছুটি গ্রহণেরও অনুমতি থাকবে না। যদিও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন সাপেক্ষে সাধারণ নৈমিত্তিক ছুটির সঙ্গে এই ছুটি মিলিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
এছাড়াও নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, এই বিশেষ ছুটি আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ব্যবহার করতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমার পরে অব্যবহৃত ছুটি আর কার্যকর থাকবে না।
প্রশাসনিক মহলের মতে, উৎসবের সময়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও হোমগার্ড বাহিনীর সদস্যরা যে বাড়তি চাপের মধ্যে কাজ করেন, সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে বাহিনীর কর্মীদের মনোবল আরও বাড়বে এবং তাঁদের দায়িত্ববোধের প্রতি সরকারের সম্মানও স্পষ্ট হবে।
পুলিশ ও হোমগার্ড মহলের একাংশের মতে, বছরের পর বছর উৎসবের আনন্দ থেকে দূরে থেকে কর্তব্য পালন করাই তাঁদের পেশার অংশ। তাই সরকারের তরফে এই অতিরিক্ত ছুটির ঘোষণা তাঁদের কাছে শুধু প্রশাসনিক সুবিধাই নয়, বরং দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।