১০ জুন ইতিহাস গড়বেন মোদী, নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেহরুর রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক
জাতীয়

১০ জুন ইতিহাস গড়বেন মোদী, নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেহরুর রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক

স্বাধীন ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়— ৪,৩৯৯ দিনের একটানা নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জওহরলাল নেহরুকেও ছাড়িয়ে যাবেন নরেন্দ্র মোদী।

শেয়ার
X WhatsApp

স্বাধীন ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৬ সালের ১০ জুন একটি বিশেষ দিন হিসেবে চিহ্নিত হতে চলেছে। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের সর্বাধিক সময় ধরে একটানা দায়িত্ব পালনকারী নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়বেন। তিনি দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর দীর্ঘদিনের রেকর্ড অতিক্রম করবেন।

২০১৪ সালের ২৬ মে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। এরপর ২০১৯ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি টানা তৃতীয়বার দেশের শাসনভার গ্রহণ করেন। ২০২৬ সালের ১০ জুন তাঁর একটানা কার্যকালের মেয়াদ দাঁড়াবে ৪,৩৯৯ দিন, যা স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে নির্বাচিত কোনো প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ।

অন্যদিকে, জওহরলাল নেহরু ১৯৫২ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের পর ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৬৪ সালের ২৭ মে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত সেই পদে ছিলেন। নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর কার্যকালের দৈর্ঘ্য ছিল ৪,৩৯৮ দিন। ফলে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে নেহরুর এই দীর্ঘস্থায়ী রেকর্ড ভেঙে নতুন নজির গড়বেন মোদী।

কেন এই রেকর্ড গুরুত্বপূর্ণ?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই তুলনাটি শুধুমাত্র গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যকাল বিবেচনা করে করা হয়েছে। যদিও নেহরু ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তবুও নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর মেয়াদ ধরা হয় ১৯৫২ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর থেকে।

মোদীর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে পরপর তিনটি লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়। ২০১৪ সালে প্রথমবার কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর থেকে তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিসরে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছেন এবং দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্বের একটি বিরল উদাহরণ স্থাপন করেছেন।

নেহরু ও মোদী: দুই ভিন্ন রাজনৈতিক যুগ

বিশেষজ্ঞদের মতে, নেহরু এবং মোদীর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট একেবারেই আলাদা। নেহরু স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে কংগ্রেসের প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবেশে দেশ পরিচালনা করেছিলেন। অন্যদিকে, মোদীকে বহুদলীয় ও অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে জনসমর্থন ধরে রাখতে হয়েছে।

এই কারণে অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন, দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচনী সাফল্য বজায় রাখা এবং সরকারের নেতৃত্বে থাকা বর্তমান সময়ে আরও বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

বিজেপি শিবিরে উচ্ছ্বাস

এই ঐতিহাসিক মাইলফলককে ঘিরে ইতিমধ্যেই বিজেপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। দলের একাধিক নেতা এটিকে জনগণের ধারাবাহিক সমর্থন এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে তুলে ধরছেন।

১০ জুনের এই রেকর্ড শুধুমাত্র একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং স্বাধীন ভারতের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ধারাবাহিকতার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। আগামী দিনে এই অর্জন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

KOLOROB Note

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে আমাদের Contact পৃষ্ঠার মাধ্যমে জানান। যাচাই শেষে সংশোধনী প্রকাশ করা হবে।

সম্পর্কিত খবর আরও →
ভারতই বিশ্বের দ্রুততম বৃদ্ধির বৃহৎ অর্থনীতি, ৭.৭ শতাংশ বৃদ্ধিকে স্বাগত জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
জাতীয়

ভারতই বিশ্বের দ্রুততম বৃদ্ধির বৃহৎ অর্থনীতি, ৭.৭ শতাংশ বৃদ্ধিকে স্বাগত জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

কোচিং পড়তে যাওয়ার পথে ছাত্রীর সঙ্গে অশ্লীল আচরণ! রাস্তাতেই যুবককে চড়, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য
জাতীয়

কোচিং পড়তে যাওয়ার পথে ছাত্রীর সঙ্গে অশ্লীল আচরণ! রাস্তাতেই যুবককে চড়, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য

ভুবনেশ্বরে এবিভিপির জাতীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠকের আজ দ্বিতীয় দিন
জাতীয়

ভুবনেশ্বরে এবিভিপির জাতীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠকের আজ দ্বিতীয় দিন