অঙ্গনওয়াড়ি পরিষেবায় ডিজিটাল বিপ্লব, ১ জুলাই থেকে বন্ধ হচ্ছে ১১টি কাগুজে রেজিস্টার
রাজ্যের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনতে বড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে রাজ্যের আইসিডিএস (ইন্টিগ্রেটেড চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেস) কেন্দ্রগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত ১১টি ফিজিক্যাল বা কাগুজে রেজিস্টার বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। পরিবর্তে তথ্য সংরক্ষণ, আপডেট এবং পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্ত কাজ পরিচালিত হবে ‘পোষণ ট্র্যাকার’ অ্যাপের মাধ্যমে।
এই সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা ইতিমধ্যেই জারি করেছে আইসিডিএস অধিকর্তার দপ্তর। নির্দেশ অনুযায়ী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের নিয়মিতভাবে শিশু, গর্ভবতী মহিলা, প্রসূতি মা এবং পুষ্টি সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আপডেট করতে হবে।
পেপারলেস প্রশাসনের পথে আরও এক ধাপ
সরকারি সূত্রের দাবি, প্রশাসনিক কাজকে আরও সহজ, দ্রুত এবং আধুনিক করে তুলতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের একাধিক রেজিস্টার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করতে হত। ডিজিটাল পদ্ধতি চালু হলে সেই অতিরিক্ত কাগজপত্রের কাজ অনেকটাই কমবে।
পাশাপাশি, তথ্য সংরক্ষণে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, তথ্যের দ্রুত প্রাপ্তি এবং পরিষেবা প্রদানের গতি বাড়বে বলেও মনে করছে প্রশাসন।
কী কী সুবিধা মিলবে?
নতুন ব্যবস্থার ফলে—
তথ্য সংরক্ষণ হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল মাধ্যমে
শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যের তথ্য রিয়েল-টাইমে আপডেট করা যাবে
কাগজপত্র সংরক্ষণের ঝামেলা কমবে
প্রশাসনিক নজরদারি আরও সহজ হবে
পরিষেবা প্রদানে স্বচ্ছতা ও গতি বাড়বে
টিকাকরণ সংক্রান্ত রেজিস্টার আপাতত থাকছে
তবে সব রেজিস্টার একসঙ্গে বন্ধ হচ্ছে না। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, টিকাকরণ সংক্রান্ত VHSND (Village Health Sanitation and Nutrition Day) অংশের রেজিস্টার আপাতত চালু থাকবে। স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ায় ওই তথ্য এখনও কাগুজে নথিতেও সংরক্ষণ করা হবে।
আধুনিক অঙ্গনওয়াড়ি ব্যবস্থার লক্ষ্য
প্রশাসনের মতে, ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অঙ্গনওয়াড়ি পরিষেবাকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং কার্যকর করে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। শিশু ও মাতৃকল্যাণ সংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে পরিষেবার মানও আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে চলা এই সিদ্ধান্তকে রাজ্যের অঙ্গনওয়াড়ি ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।