সহরসা: মন্দিরের পাশের গেস্ট হাউসে চলছিল অবৈধ কার্যকলাপ, পুলিশের অভিযানে ধরা পড়ল দেহব্যবসার চক্র
বিহারের সহরসা জেলায় দেহব্যবসার একটি চক্রের পর্দাফাঁস করেছে পুলিশ। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে এক যুবতী-সহ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত গেস্ট হাউসটিকেও সিল করে দিয়েছে প্রশাসন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সহরসার রিফিউজি কলোনি চকের কালীমন্দিরের পাশেই অবস্থিত ‘জগদম্বা গেস্ট হাউস’-এ দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কার্যকলাপ চলছিল বলে অভিযোগ ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ও প্রশাসনের যৌথ দল সেখানে অভিযান চালায়। প্রায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তল্লাশি চালিয়ে এক যুবতী-সহ ছয়জনকে আটক করা হয়।
তবে অভিযানের সময় আরও কয়েকজন মহিলা ও পুরুষ পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।
উদ্ধার আপত্তিকর সামগ্রী
তল্লাশির সময় গেস্ট হাউস থেকে একাধিক আপত্তিকর সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। এছাড়াও ডিজিটাল পেমেন্ট সংক্রান্ত সরঞ্জাম, স্ক্যানার এবং অন্যান্য সামগ্রীও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ঘটনার পর গেস্ট হাউসটি সিল করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন এসডিও শ্রেয়াংশ তিওয়ারি, এসডিপিও সন্তোষ কুমার, সদর থানার ওসি অজয় পাসওয়ান-সহ বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী।
গেস্ট হাউস মালিকের পরিচয় নিয়েও রহস্য
স্থানীয় সূত্রের দাবি, গেস্ট হাউসের মালিক নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন রাখতেন। এলাকাবাসী তাঁকে ‘মেহমান’ নামেই চিনতেন। অভিযোগ, গেস্ট হাউসে আগত গ্রাহকদের অনেকেই মালিকের আসল নাম পর্যন্ত জানতেন না।
তদন্তে পুলিশ
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং এই চক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।